আগাম শিমে লাভবান চুয়াডাঙ্গার চাষিরা

আপডেট: 03:33:48 22/09/2018



img
img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : অনুকূল আবহাওয়া থাকায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাঠে আগাম শিমের আবাদ করেছেন চাষিরা। ফলন এবং দাম ভালো পাওয়ায় শিম চাষিরা সন্তুষ্ট।
চুয়াডাঙ্গায় মোট জমির পরিমাণ ৯৭ হাজার ৫৮২ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদযোগ্য জমি প্রায় সাত হাজার হেক্টর। এ জেলায় ভুট্টা আবাদের পরই সবজি আবাদ বেশি হয়ে থাকে। আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূল এবং জমি উচু সমতল হওয়ায় তা সবজি চাষ-উপযোগী। প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রকার আগাম সবজির চাষ করে থাকেন এ জেলার চাষিরা।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৬৭ হেক্টর জমিতে আগাম অটো জাতের শিম চাষ করেছেন চাষিরা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২১৫ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৭৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৫২ হেক্টর ও জীবনগর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর জমি রয়েছে। চলতি বছর বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হওয়ায় শিমের আগাম আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। বাজারদর ভালো। ফলে চাষিরা বেশ খুশি।
অপর দিকে স্বল্প সময়ে সবজি বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় শিমের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের মাঠের দিকে তাকালেই দেখা যায়, আবাদযোগ্য জমিজুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশীল অটো জাতের শিম। শিম চাষ এলাকাটিকে সাজিয়েছে সবুজের আবরণে। বিকেল হলেই চাষিরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ বিকেলই হলো শিমের পরিচর্যার উপযুক্ত সময়।
সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের শিমচাষি আবু হানিফ জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি আড়াই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছে।
তিনি বলেন, তার দেখাদেখি অন্যান্য চাষিরা আগাম শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রথমে অল্প জমিতে শিম চাষ করতে করতে চাষিরা এখন ব্যাপক হারে এই সবজির আবাদ করছেন। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তারা।
চাষি হানিফ বলছেন, গত বছরের মতো এবছর আড়াই বিঘা জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করেছেন তিনি। তার আশা, বিঘাপ্রতি এক লাখ টাকার শিম বিক্রি হবে। এরই মধ্যে কয়েক মণ শিম বিক্রি করে ফেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’ল থাকলে আড়াই বিঘা জমিতে কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী এই চাষি।
একই গ্রামের শিমচাষি মনু মিয়া, এনাফ বিশ্বাস, বোরহান, আমিরুল, মালেক মেম্বর, ফারুক, চান্দু, কাশেম, মালেক বিশ্বাস, মনির হোসেন, শুকুর আলীসহ বেশ কিছু চাষি শিম চাষ করে বদলে নিয়েছেন নিজেদের আর্থিক অবস্থা।
চাষিরা জানান, শিম চাষ করতে হাতে-কলমে কোনো প্রশিক্ষণ পাননি তারা। নিজ উদ্যোগে এ চাষ করছেন। বর্তমানে শিম চাষের নানা উপকরণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কিছুটা বেশি। বীজ লাগানোর পর থেকে এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমন এবং পচনরোধে প্রায় প্রতিদিন ওষুধ স্প্রে করতে হয়। ৫০ থেকে ৫৫ দিনে গাছে শিম ধরা শুরু করে। এখানকার চাষিদের উৎপাদিত শিম বাজারজাত করতে অন্য কোনো স্থানে যেতে হয় না। রাজধানী ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে তাদের কাছ থেকে শিম কিনে নিয়ে যান। এছাড়াও কোনো কোনো চাষি ক্ষেতের শিম জমি থেকে তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, এলাকার জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ জেলার চাষিরা শিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে থাকেন। এবছর শিমের বাজার বেশ ভালো। প্রথম দিকে কেজি প্রতি বাজার দর ১০০ থেকে ১১০ টাকা হলেও বর্তমানে ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম থাকলে শিম চাষিরা বেশ লাভবান হবেন।

আরও পড়ুন