আজ কালিয়া মুক্ত হয়

আপডেট: 02:07:05 09/12/2017



img

নড়াইল প্রতিনিধি : আজ ৯ ডিসেম্বর নড়াইলের কালিয়া মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে পরাজিত করে কালিয়াকে মুক্ত করে। 

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল নড়াইল ও কালিয়ার মুক্তিপাগল জনতা। ওই সময় নড়াইলের এসডিও’র বাসভবনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সদর দপ্তর স্থাপিত হয়। ৭মার্চ কালিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শেখ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে স্কুল প্রাঙ্গণে পাকিস্তানি পতাকা পুড়িয়ে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তার পুর্বে আব্দুস সালামকে আহবায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট কালিয়া থানা ‘স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটি গঠন করা হয়।

ওই সময় নড়াইলের জামায়াত নেতা পিস কমিটির সভাপতি মওলানা সোলায়মানের নেতৃত্বে ‘শান্তিবাহিনী গঠিত হয়’। তার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কালিয়ার ইসলামপুর গ্রামের শেখ তবিবর রহমান মাষ্টার। তাদের নির্দেশে শতশত মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে জবাই করে হত্যা করে রাজাকার সদস্যরা।

এছাড়া একই দিনে (১০ ডিসেম্বর) কালিয়াকে পাক হানাদার মুক্ত করতে কমান্ডার আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ডেপুটি কমান্ডার ওমর আলী, মোল্যা ইমদাদুল হক, এসএম হারুনুর রশীদ, হেমায়েত মুন্সী, শহীদ চৌধুরী, শাহাজাহান বিশ্বাস, মাকলুকার চৌধুরী, সুবেদার মোশারেফ হোসেন টুকু, মোল্যা মনিরুজ্জামান, সৈয়দ সরাফ আলী, হাফিজুর রহমান, একরামূল হক টুকু, সাজ্জাদ হোসেন মোল্যা, সুলতান কাজীসহ দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেন। এ যুদ্ধে কালিয়া হানাদার মুক্ত হয়। যুদ্ধে আকমান হোসেন মোল্যা ও আবু বকর শেখ শহীদ হন। শরীফ আব্দুল মান্নান, লিয়াকত হোসেন লিকু ও আব্দুল গফফার শেখ যুদ্ধে আহত হন।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে কালিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, চিত্রা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও র‌্যালির কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন