আজ দুই বীরের শাহাদতবার্ষিকী

আপডেট: 02:37:28 10/12/2016



img

খুলনা অফিস : আজ ১০ ডিসেম্বর শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীরবিক্রম মো. মহিবুল্লাহর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী।
দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী, রূপসা উপজেলা প্রশাসন, রূপসা প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিনের প্রথম প্রহরে পূর্ব রূপসায় জাতির এ দুই শ্রেষ্ঠ সন্তানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা সামরিক মর্যাদায় এ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বিকেল ৪টায় রূপসা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৬টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ১৯তম ১৬ দলীয় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। সব শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রূপসা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা। বিশেষ অতিথি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াছুর রহমান, চলন্তিকা যুব সোসাইটির চেয়ারম্যান আলহাজ মো. খবিরুজ্জামান এবং নৈহাটী ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল। সভাপতিত্ব করবেন রূপসা প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বিষ্ণু ।
দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার মাত্র ছয় দিন আগে খুলনা শিপইয়ার্ডের অদূরে ভুল সিগনালের কারণে মিত্রপক্ষের বোমা হামলায় শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন ও বীরবিক্রম মো. মহিবুল্লাহ।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, যুদ্ধের শেষ দিকে খুলনাকে শত্রুমুক্ত করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি নৌ-ঘাঁটি তিতুমীর দখল করতে ৭ ডিসেম্বর মুক্তিকামী নৌ-সেনারা ভারতের নেভাল জেটি হলদিয়া থেকে তিনটি রণতরী বিএনএস ‘পদ্মা’, ‘পলাশ’ ও আইএনএস ‘পানভেল’ (ভারতীয়) নিয়ে বাংলার জলসীমায় যাত্রা শুরু করেন। ১০ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে জাহাজ তিনটি খুলনা শিপইয়ার্ডের অদূরে পৌঁছালে ভুল সিগনালের কারণে মিত্র বাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত বোমায় ‘পলাশ’ জাহাজটি বিধ্বস্ত হয়। এসময় জীবন বাঁচাতে অনেকে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু জাহাজের ইনজিনরুম আর্টিফিশিয়ার (চিফ ইআরএ) রুহুল আমীন অগ্নিদগ্ধ রণতরী ও বিপন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজেই শহীদ হন। এটির নেতৃত্বে ছিলেন রুহুল আমীন ও তার সঙ্গে ছিলেন এক ঝাঁক দামাল নৌ-সেনাসহ তার অপর সহকর্মী মহিবুল্লাহ।
এ সময় পলাশের অনুসারী অপর দুটি রণতরী পদ্মা ও পানভেল পেছনে সরে যাওয়ায় ওই দুটি জাহাজের মুক্তিসেনারা প্রাণে রক্ষা পান।
পরে সহযোদ্ধারা রুহুল আমীন ও মহিবুল্লাহসহ অন্যদের রূপসা নদীর পূর্ব পাড়ে সমাহিত করেন।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের বাবার নাম আজাহার আলী মিয়া। ১৯৩৪ সালে নোয়াখালী জেলার বাগআঁচড়া গ্রামে তার জন্ম হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৭১ সালে তিনি দেশ স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে নয় নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
তার অপর সহযোদ্ধা বীরবিক্রম মো. মহিবুল্লাহর বাবার নাম মো. সুজা আলী। ১৯৪৪ সালে তিনি চাঁদপুর জেলার শাহেদপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬২ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দান করেন এবং ১৯৭১ সালে নয় নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

আরও পড়ুন