আট জেলায় ১৯৩ এইচআইভি পজেটিভ

আপডেট: 01:28:45 28/09/2018



img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলায় ১৯৩ জন এইচআইভি পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলায় ৫৩ জন পুরুষ ও ৩১ জন নারীর শরীরে এইচআইভি জীবাণু রয়েছে। ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নড়াইল ও মাগুরায় ১০৯ জন এইচআই পজেটিভ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও আমেরিকা থেকে ফিরে আসা প্রবাসীরা এই অঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছেন। আক্রান্তের তালিকায় দু-একজন হিজড়ার (তৃতীয় লিঙ্গ) নামও রয়েছে। তবে এ অঞ্চলের কোনো পতিতালয়ে যৌনকর্মীদের শরীরে এইচআইভি জীবাণু পাওয়া যায়নি।
প্রতিবছর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। খুলনাঞ্চলে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ’ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
এ সংগঠনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ ও ১৬ সালে এইডস আক্রান্ত আটজনের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালে মারা যান ১২ জন। মৃতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, চারজন নারী। গতবছর কমপক্ষে ২১ জন পুরুষ, ১৫ জন মহিলা ও একজন হিজড়া নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ সংগঠনের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০০৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মুক্ত আকাশের মুখপাত্র জানান, অভাবের তাড়নায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষদের অনেকে কাজের আশায় বছরে তিন-চার বার ভারতে যান। এছাড়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও আমেরিকা থেকে ফিরে আসা শ্রমিকরা এ অঞ্চলে এইডস ছড়াচ্ছেন। বিশেষ করে যশোরের বেনাপোল, চৌগাছা ও খুলনা শহরে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। 
খুলনা মেডিকেল কলেজের সূত্র জানায়, শুধুমাত্র খুমেকে এ বছর এইচআইভিতে নতুন আক্রান্ত ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ হাসপাতালে মারা গেছেন তিনজন।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, উল্লিখিত দেশ থেকে আসা শ্রমিকেরা এ অঞ্চলে এইচআইভি জীবাণু ছড়াচ্ছেন। তার মধ্যে বেশিরভাগই ভারত থেকে ফিরে আসা। এ সংগঠনের পক্ষ থেকে এইচআইভি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। রোগীদের পুষ্টি ও ওষুধ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন