আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ

আপডেট: 03:25:07 01/04/2019



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে ফারজানা ইয়াসমিন ডলি (৪০) নামে এক নারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। সোমবার ভোররাতে শহরের পূর্ববারান্দী বটতলায় ডলি আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ডলি যশোরের জনৈক মকবুল হোসেনের মেয়ে এবং রাজধানীর মধ্য বাড্ডার রাজিবুল হাসান বাবুর স্ত্রী।
মকবুল হোসেন সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে আমার মেয়ে ডলিকে বাবুর সাথে বিয়ে দেই। তাদের তিশা, ঐষী ও পুশ্চিতা নামে তিনটি মেয়ে আছে। মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলে লেখাপড়া করে। কিন্তু আমার জামাই বাবুর চরিত্র ভালো না। তার একাধিক পরকীয়া রয়েছে। আমার মেয়ে বহু প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পায়নি। এক পর্যায় মেয়ে ডলিকে তার স্বামী বাবু গত শুক্রবার বাড়ির থেকে বের করে দিলে সে ঢাকা থেকে যশোরে চলে আসে।’
নিহতের মা শামছুন্নাহার সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘‘আমার নাতনি ঐশি আর তিশা বলেছিল, ‘নানু মাকে চোখে চোখে রেখ। মা কিন্তু মরবে।’’
নিহতের ভাই মনির হোসেন খান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি বাবুর সাথে যশোরের একজন কাপড় ব্যবসায়ীর স্ত্রী ও একজন ভিআইপি কলগার্লের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলছে। এই দুই মহিলাই ঢাকায় বসবাস করে। এছাড়া আগেও খুলনা, ঝিনাইদহ, চিটাগাংয়ের তিনজন মহিলার সাথে বাবুর পরকীয়া ছিল। এই নিয়ে আমার বোন ডলির সাথে বাবুর দাম্পত্য বিরোধ লেগেই থাকতো। বোন ডলি তার তিন মেয়ের কথা চিন্তা করে সব কিছু এতদিন নীরবে সহ্য করে এসেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে বাবু তার বাসা ঢাকার বাড্ডা থেকে ডলিকে বের করে দেয়। ডলি আমাদের বাসায় চলে আসে। এই ঘটনা নিয়ে গতরাতে ডলি এবং বাবুর মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ঝগড়া হয়। বাবু মোবাইল ফোনে ডলিকে মরতে বলে। ভোররাতে ডলি কাউকে কোনো কিছু বুঝে উঠতে না দিয়ে বাসার ভেন্টিলেটরের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ফজরের আজানের পরে আমরা টের পাই।’
যশোর কোতয়ালী থানার এসআই মোকলেচুর রহমান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা না কি আত্মহত্যার প্ররোচনায় হত্যা, এই দুটি বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত করে দেখছি।’

আরও পড়ুন