আনন্দ-উৎসবে শতবর্ষ উদযাপন এমএসটিপির

আপডেট: 06:55:50 07/01/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : রঙিন জামা-কাপড়, হাসি-উচ্ছ্বাস, আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে শতবর্ষ বরণ করে নিয়েছেন যশোর শহরের অন্যতম প্রাচীন স্কুল মধুসূদন তারাপ্রসন্ন বালিকা স্কুল ও কলেজের (এমসটিপি স্কুল) পুরনো-নতুন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার সকাল থেকেই শহরের এই প্রাচীন বিদ্যায়তনটি ফুলে ফুলে ভরে যায়; উন্মাদনায় ভাসেন বহু পুরনো শিক্ষার্থীরা। রঙ-বেরঙের পোশাক আর মাথায় ফুলের মালা পরে এখানে সেখানে হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠেন এই বিদ্যালয়ের পুরনো-নতুন শিক্ষার্থীরা।
বেলা পৌনে একটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান অতিথিরা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমাতআরা সাদেক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ।
শুরুতেই জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিদের সমন্বয়ে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে শতবর্ষ উৎসবের দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী ইসমাতআরা সাদেক এমপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। তিনি নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মহান মানুষদের সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে। তাদের অবদান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, যশোরের ঐতিহ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। মণীষীদের দেখানো পথে চলতে পারলেই আমাদের প্রভূত উন্নতি সম্ভব।’
তিনি এই বিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং মহান নারী জাগরণের অন্যতম পুরোধা বেগম রোকেয়ার আন্দোলনের যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘যে মহান ব্যক্তি রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদার স্কুলের জন্যে ১৯০৪ সালে এই জমি দান করেছিলেন, তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অবহেলিত নারীসমাজকে আলোকিত করার মানসে যারা প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান অবশ্যই জানাতে হবে।’
তিনি নারীদের সমাজসেবামূলক কাজে আরো বেশি করে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্ত্রী এই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক তার স্বাগত বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘হরিদ্বার বানানটি বলতে না পারায় তৎকালীন শিক্ষক আমাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করেননি; অগত্যা প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হই। সবাই স্কুলের বেঞ্চে বসলেও আমাকে মাটিতে পাটি বিছিয়ে বসতে হতো। সেই অপমান আমি এখনও ভুলিনি।’
‘এখানে ছাতিমগাছ, বাদামগাছ আর পুরনো একটি বাড়ি ছিল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবারই ভেতরে একটা ইচ্ছে কাজ করে; তা হচ্ছে পুরনো সব ভেঙে নতুন গড়া। কিন্তু এটা ঠিক নয়। পুরনো অনেক কিছুই আমাদের ঐতিহ্য, মজ্জাগত। এসব কিছু থেকে আমাদের অনেক শিক্ষণীয় আছে।’
‘শত বছরের পুরনো এই বিদ্যালয়ে মোটে ৩৬২ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। যার মধ্যে ১৮০ জনই গৃহিণী; ১১৯ জন শিক্ষকতা বা চাকরি করেন’- এই পরিসংখ্যানটা মোটেও ভালো নয় বলে তিনি মত দেন।
তিনি বলেন, ‘১৯০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বের হলেও আমাদের অর্জন মোটেও সুখকর নয়।’
সভাপতির বক্তব্যে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘শৈশবে হলিক্রসে পড়তাম; তখন ছেলেদেরও ভর্তি করা হতো। আমাদের ব্যাচের অতিরিক্ত দুষ্টুমির কারণে পরে আর সেখানে ছেলেদের নেওয়া হতো না। আজকের এই আয়োজনে আমি যারপরনাই উচ্ছ্বসিত; অত্যন্ত খুশি। পুনর্মিলনী বা রি-ইউনিয়ন মানুষকে উজ্জীবিত করে। তার সবটুকুই আজকের এই শতবর্ষ উৎসবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
তিনি সবাইকে দেশ গড়ার শিক্ষায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, এমএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবং এই স্কুলের ছাত্রী নমিতা বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, জেলা মহিলা সংস্থার সভাপতি রুনা লায়লা, স্কুলের দাতা সদস্য মিজানুর রহমান প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেরিয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো ঘোরে।
দিনভর অনুষ্ঠানমালার মধ্যে বিকেলে স্মৃতিচারণ করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

আরও পড়ুন