আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দখলে খুলনা

আপডেট: 08:19:44 05/08/2018



img
img

জিয়াউস সাদাত, খুলনা : নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রভাবে নগরজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুলের বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ নিচ্ছে।
রোববার দুপুর ১২টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ির মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বেলা তিনটা পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়াসম্বলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো শহর।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে এর বিচার দাবি করছেন। একইসঙ্গে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান।
শিববাড়ির মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় আশপাশের সকল সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রিকশা কিংবা হেঁটে শিববাড়ির মোড় বাদ দিয়ে অন্য রাস্তায় গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করেন অনেকে।
রোববারও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছেন। আজ রাজপথের আন্দোলনে খুলনা বিশ্ববিদ্যায়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এছাড়া সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা জিলা স্কুলসহ বেশ কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।
এদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শিববাড়ির মোড়ের দিকে আসার পথে সোনাডাঙ্গা বাসটারমিনাল এলাকায় তাদের প্রতিহত করতে কয়েকশ’ পরিবহন শ্রমিক অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারা চলে যান।
এছাড়া সকাল থেকে শিববাড়ি মোড়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিশাল মিছিল দেখে তারাও সরে যান।
যদিও স্কুল শিক্ষার্থীদের শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বাধায় পণ্ড হয়ে যায়।
শিববাড়ি মোড় এলাকায় সকালে জলকামান নিয়ে শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও অবস্থানে তারা কোন বাধা দেননি।
সকালে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে তা প্রতিরোধে আমরা এখানে এসেছিলাম।’

আরও পড়ুন