আবদুল লতিফের কবিতা

আপডেট: 09:16:07 22/06/2017



img

ফেরার পথে

এইতো আর কিছুদূর পেরুলেই শহরতলী; এখন তেমন কোনো তাড়া নেই আমার; তবুও আরো কিছুটা পথ পেরুতেই হবে...
আরো কিছু শুখনো রুটি অবশিষ্ট আছে যা গতকালই শেষ হতে পারতো।

এক যুদ্ধাহত সৈনিক আমার সঙ্গে গতকাল সারারাত আমারি পাশে শয্যায়িত; যদিও তার মৃত্যু হওয়াটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক, তথাপি আমিও নিজেকে সামলে নিয়েছি এবং তার মৃতকফিন বহন করেই আমার আগামী কয়টা দিন অপেক্ষা করতে হবে।
গন্তব্যের পথে...

এখন মধ্যরাত, ভরা পূর্ণিমায় প্রতিটি মুহূর্তে সভ্যতাভিমানী আমি, এই আমি; ভাবছি... আর দেখছি জলের বুদবুদে নিজেকেই অন্তরিক্ষণে- বারবার, জাহাজ ততক্ষণে চলছে- দ্রুত; বার বার ইচ্ছে হয় ঝাঁপ দিয়ে তলিয়ে যাই; পাথরের মতো।

বোঝাতে ব্যর্থ হলাম! অথবা হলাম না। যা কিছু; পৃথিবীর সেই সব কুলাঙ্গার সন্তানগণ আর কত ক্ষমতার মসনদের পাহাড় ভেবে প্রতিটি সম্ভাবনাময় প্রাণকে তাড়িয়ে দিবে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে?
এই দায়ভার কে নেবে? সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দোসররা পৃথিবী থেকে চিরতরে বিদায় হোক কিন্তু তারপরেও জেনে রেখো; হে অবুঝ সম্প্রদায় আমি তোমাদের মঙ্গল কামনা করবো, জীবনের বাকি বছরগুলোতে।




হত্যা কেন করো?

আমার রাস্তার দুইপাশ দিয়ে এই যে অহেতুক রাষ্ট্রীয় কিংবা মিলিশিয়া বাহিনীর গোপন নজরদারি আমাকে ঘিরে! এটা অন্যায় নয় কি? নাকি তা সাংবিধানিকভাবেই বৈধ কোন সরকারি প্রজ্ঞাপন? যেন আমাকে গ্রেফতার করার জন্যই তোমাদের ও আন্তর্জাতিক মিলিশিয়া চক্রের এই গোয়েন্দা মহড়া

অথচ পৃথিবী নামক তোমাদের এই প্রিয় সভ্যতা; বহুকাল আগেই তো ভূগর্ভে বিলীন হয়েছে এটমিক তেজস্ক্রিয়তায়- আবারো চাইছোটা কী?

হিরোশিমায় মুখথুবড়ে পড়েছিলাম আমি; আমারি অঙ্গ-প্রতঙ্গ, মাথা-মগজ, হাড়-মাংস ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যখন বিলুপ্তপ্রায়- তখন কঠিন প্রচেষ্টায়, কিছুটা জীবিত হলাম আমি এবং বেঁচে থাকলাম এক চিমটি প্রেমকে হৃদয়ে আগলে...

বেশ কটাদিন একাকিত্ব ভালোলাগলো; ঠিক যেন পরিত্যক্ত কোন দ্বীপে একটি ভাঙ্গা সাবমেরিন পড়ে আছে শত বছরের বালিতে- যেখানে মিস্ত্রিরা ভুলেও পৌঁছাবে না কোনদিন।

এখন আমাকে ভয় দেখিয়ে আবার লাভ কী? আমার দরজাটি আমি খুলেছি
এখন গ্রীষ্মকাল; কালকের পরে
দমকাবাতাস বইবে এই শহরে...
আমি পরাজয় মেনে নিয়েছি তোমরা এখান থেকে ফিরে যেতে পারো।




পাওয়া

দক্ষিণের সমুদ্র উত্তাল; উত্তর দিকে ঝড়- পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে হাওয়া লেগে গেছে অদ্ভুত! পুবে-পশ্চিমে প্রবাহিত শুভ্র ফেনা; বয়ে যাচ্ছে রুপালি জলের কণা...
আমরা মিলেছি পকেট ভর্তি আঁধারের ছায়ায়
কী বসন্ত কী শরত! রিদয়ের চাওয়ায়, ভাষায়- আমরা এসেছি, মরেছি অনাগত দিনের পথে...
আছে অধিকার; আছে আশা, আছে মিলনের পসরা- আমরাই মিলে যাবো আগামীর দুনিয়ায় মেলার মতই কোন সময়ে নানান রকম ভিন্নতায়।
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রঝড় আমাদের মিলিয়েছে সবুজ দ্বীপের কাছে; কোন এক গ্রামে হয়ত জন্মদীপ বলি তারে।
এখন সময় মূলত মেলার-মিলনের-হিশেবের, কবিতার; এখন হয়তো লিখা হবে গান দুমড়ে-মুড়চে, ভেঙ্গে-চুরে-নড়ে, আবারো গাইবো- গান; হয়ত ভাষার গান নিবেদনের ‘আর্জির বন্ধুতার’
আমরা এভাবেই এসেছি; এসেছি পুরাতন পৃথিবীর দেশ থেকে দেখা হয়ে গেলো তোমাদের সাথে- আমার দেখার পথেই।