আমজাদের এবারের পতাকা সাড়ে পাঁচ কিমি দীর্ঘ

আপডেট: 03:35:14 04/06/2018



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার ‘পতাকা আমজাদ’খ্যাত আমজাদ হোসেন এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে তার প্রিয় দল জার্মানির জন্য সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানিয়েছে।
গত বিশ্বকাপে এ পতাকার দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে তিন কিলোমিটার। যেটি দেখতে মাগুরায় এসেছিলেন জার্মান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্দিনান্ত ফন ওয়েহে।
এবার আমজাদের পতাকা দেখতে মাগুরায় আসছেন বাংলাদেশে থাকা জার্মান দূতাবাসের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা তামারা কবিরসহ অপর দুই ক‚টনীতিক আইনেস নেধার্থ ও কারেন ওইজুরা। তাদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার আমজাদ হোসেন তার নিজ গ্রাম মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এই পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শন করবেন বলে জানিয়েছেন।
আমজাদ হোসেন মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্যার ছেলে। পেশায় একজন সাধারণ কৃষক। ১৯৮৭ সালে তিনি কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় অনেক রকম চিকিৎসা নিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। অবশেষে মাগুরার মনোরঞ্জন কবিরাজ নামের আয়ুর্বেদিক এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানির হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের পরই তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর থেকেই আমজাদ হোসেন জার্মানির প্রতি আসক্ত হয়ে ওঠেন। সে সূত্র ধরেই বিশ্বকাপে জার্মান ফুটবল দলের ভক্ত হয়ে গেছেন তিনি। যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আমজাদ হোসেন নিজ খরচে তৈরি করেছেন এই পতাকা।
আমজাদ হোসেন জানান, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটারের পতাকা তৈরির জন্য তিনি প্রথম তার গ্রামের এলাহির কাছে ২০ শতক জমি বিক্রি করেন। কিন্তু সেই টাকার বেশিরভাগ অন্যকাজে খরচ হয়ে যায়। যে কারণে দ্বিতীয় দফায় তার ভাতিজা মিজানুরের কাছে ৩০ শতক জমি বিক্রি করেছেন। যার ভেতর থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ করেন ওই পতাকা তৈরির জন্য। প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই পতাকা তৈরির জন্য তিনি শহিদুল ইসলাম রেন্টু, জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাইদ মোল্যা নামে তিন জন দর্জিকে এই কাজে নিয়োগ করেন। যাদেরকে মজুরি হিসেবেই দিতে হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এবার ওই দর্জিসহ নতুন কিছু দর্জি নিয়ে তৈরি করেছেন সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা। যাতে খরচ হয়েছে দুই লক্ষাধিক টাকা। এজন্যে এবার তিনি দশ শতক জমি বিক্রি করেছেন। তবে টাকা খরচের বিষয় নিয়ে তিনি মোটেই চিন্তিত নন। জার্মানি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলে বরং আরো বেশি টাকা খরচ করে জমকালো অনুষ্ঠান করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আমজাদ মনে করেন, তার পতাকা তৈরির বিষয়টি বিশ্বে বাংলাদেশকে নতুন এক পরিচয়ে পরিচিত করছে। তা হচ্ছে এদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম।
আমজাদ জানান, তার শেষ ইচ্ছা বেঁচে থাকলে ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি মাগুরা-যশোর সড়কে মাগুরা থেকে সীমাখালী পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা উপহার দেবেন তার প্রিয় দলকে।
এ বিষয়ে ঘোড়ামারা গ্রামের নাসির হোসেন বলেন, ‘আমজাদ ভাই আমাদের এলাকার গর্ব। গত বিশ্বকাপে সাড়ে তিন কিলোমিটার পতাকা বানিয়ে জার্মান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে আমাদের গ্রামে নিয়ে এসেছেন। মাগুরাকে তিনি পরিচিত করেছেন বিশ্ব দরবারে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রির আড়াই লাখ টাকা দিয়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন কৃষক আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দল বিশ্বকাপ জয় করলে সে দেশের বাংলাদেশের হাই কমিশনার মাগুরার ঘোড়ামারা গ্রামে আমজাদের বাড়িতে এসেছিলেন। ওই বছরের ১২ জার্মান চার্জ দ্য আফেয়ার্স ড. ফার্দিনান্দ ফন ফার্সি ওয়েহে তাকে মাগুরা স্টেডিয়ামে জার্মানির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা ও লিখিতভাবে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সদস্য পদ দেন । বিশ্বকাপে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হলে আমজাদ হোসেন গণভোজের আয়োজন করেন। সে সময় এই নিয়ে বাংলাদেশ, জার্মানি ছাড়াও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।