আমদানি পণ্যের মোড়কের শুল্ক প্রত্যাহার

আপডেট: 02:56:35 14/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, দ্রুত আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন ও পণ্য খালাসের জন্য মোড়কের শুল্কায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন শুধু আমদানি করা পণ্যেরই শুল্কায়ন করতে হবে।
পণ্য শুল্কায়নের ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের অক্টোবরে দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করেছে এনবিআর। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আমদানি পণ্যের পাশাপাশি মোড়কেরও শুল্কায়ন করতে হবে। সোমবার এনবিআর সদস্য (শুল্কনীতি ও আইসিটি) মো. ফিরোজ শাহ আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে আগের নির্দেশনা স্থগিত করা হয়। এ সংক্রান্ত আদেশের কপি বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক আইন ও বিধিমালা, ২০০০ অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা আমদানি করা মোড়কজাত (প্যাকেজিং) পণ্যের শুধুমাত্র ওজনের (নিট ওয়েট) ওপর শুল্ক প্রদান করে আসছিলেন। এছাড়া কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের ভ্যালুয়েশন ডাটাবেজ মোড়কের ওপর লেখা পণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে এতদিন কাস্টমস কর্মকর্তারা পণ্যের শুল্কায়ন করতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের অক্টোবরে এনবিআর পণ্যের মূল্যের সঙ্গে মোড়কের দাম যোগ করে শুল্কায়ন করার নির্দেশনা জারি করে। এ নিয়ে কাস্টমস হাউসে শুল্কায়নে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, আমদানিকৃত যেসব পণ্য (প্যাকেট/বোতল/জার কিংবা অন্যান্য ম্যাটেরিয়াল) বাজারে মোড়কসহ বিক্রি হবে তার গ্রস ওয়েটে শুল্কায়ন করতে হবে। গ্রস ওয়েট বলতে পণ্য ও এর সঙ্গে মোড়কের (বোতল/টিনের কনটেইনার/কাগজের প্যাকেট/ স্টিল/আয়রন/গ্লাস/অ্যালুমিনিয়ামসহ যেকোনো প্যাকিং ম্যাটেরিয়াল) ওজন বোঝানো হয়।
সূত্র আরো জানায়, ব্যবসায়ীরা এ আদেশের বিরোধিতা করে এনির্দেশনা প্রত্যাহারে এনবিআরকে চিঠি দেন। জটিলতা নিরসনে কাস্টম হাউস ও কমিশনারেটও পৃথক চিঠি দেয়।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, বাংলাদেশ এখনো মোড়ক তৈরির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়নি। মোড়কের শুল্কায়নের ফলে পণ্যের দাম বাড়বে, দ্রুত পণ্য খালাস হবে না।
কাস্টম হাউস ও কমিশনারেট চিঠিতে উল্লেখ করে, ‘আমদানি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ বিধিমালায় পণ্যের নিট ওয়েট বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়ন করার কথা বলা আছে। অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের ডাটাবেজও পণ্যের নিট ওয়েট বিবেচনায় নিয়ে শুল্কায়ন করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন করে মোড়কের আলাদা শুল্কায়ন করা হলেও তা অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে যুক্ত হয় না। ফলে শুল্কায়নে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুত শুল্কায়নের জন্য নির্দেশনা বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
এআদেশের ফলে কাস্টম হাউস ও কমিশনারেটে আমদানিকৃত পণ্যের জট লেগে যায়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এ সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদন এনবিআরে জমা দেয়।
প্রতিবেদনে আদেশটি বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়। এ নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এনবিআরে বৈঠক হয়। বৈঠকে সম্প্রতি এনবিআরের দেওয়া নির্দেশনা স্থগিত করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোড়কসহ পণ্য শুল্কায়ন করা হয়। আমাদের দেশে পণ্যের শুল্কায়ন করা হলেও মোড়কের শুল্কায়ন করা হয় না। ফলে দেশে মোড়ক খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না। সরকার মোড়ক থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এনবিআরের কতিপয় কর্মকর্তা আগের চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে এই আদেশ জারি করান। মোড়কের ওপর শুল্ক আরোপের আদেশের ফলে পণ্যজট লাগার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন শুল্কায়ন চর্চা শুরু হয়। এতে আমদানিকারকরা নানামুখী জটিলতায় পড়েন। সেকারণে এখন থেকে আগের নির্দেশনা ও বিধিমালা অনুসারে শুল্কায়ন হবে।’