আমিরুলের চাওয়া শুধু একটি রিকশা

আপডেট: 12:35:56 26/07/2018



img

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ শহরের রিকশাচালক আমিরুলের বুকের ছয়টি হাড় ভাঙা। দুর্ঘটনায় এই অবস্থা হয়েছে তার। কিন্তু বিশ্রাম নেই। বেঁচে থাকতে হবে, পরিবারকে অন্ন জোগাতে হবে, লেখাপড়া শেখাতে হবে সন্তানদের।
স্ত্রী রিতা খাতুনও কিডনি ও হার্টের রোগী। দুইজনের মাসে প্রায় ৬-৭ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। সংসারে আমিরুলই একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। ছেলে অনার্স পড়ছেন ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে। মেয়ে দশম শ্রেণিপড়ুয়া।
বোঝাই যায়, তার খরচের বহর। অথচ আয়-ইনকাম সেই তুলনায় অনেক কম। রিকশা চালিয়ে কোনো কোনো দিন মালিকের পাওনাও মেটাতে পারেন না।
শহরের ব্যাপারীপাড়ার মৃত শেখ আব্দুস সাত্তারের ছেলে আমিরুল ইসলাম। ৪৬ বছর বয়সে তার শরীরের বার্ধক্যের ছাপ। ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের কারণে মালিকরা ভালো রিকশাও দেন না তাকে। ফলে পুরনো, জং ধরা রিকশার প্যাডেলেই ঘুরছে আমিরুলের ভাগ্যের চাকা।
ব্যাপারীপাড়ার ওয়ার্ড কমিশনার সাইফুল ইসলাম মধু জানান, আমিরুল খুবই গরিব। তার নিজস্ব একটা রিকশা থাকলে কোনো রকম দিনটা চালিয়ে নিতে পারতেন।
আমিরুল জানান, চারজনের সংসার চলে রিকশার ওপর। প্রতিমাসের ওষুধ, ছেলে মেয়ের পড়ালেখা, ঘরভাড়া দিতে দরকারি টাকা আয়ের আশা নিয়ে অসুস্থ শরীরেও সাধ্যমতো রাস্তায় থাকেন। তবু পেরে উঠা যায় না। টাকার অভাবে একমাত্র ছেলের অনার্স পড়াও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
আমিরুলের দাবি খুব বেশি না। শুধু একটা রিকশা চান সমাজের দানশীল বিত্তবানদের কাছে। তার ধারণা, নিজের একটি রিকশা থাকলে তা চালিয়ে তিনি দুই সন্তানকে পড়ালেখা করাতে পারবেন।
আমিরুলকে আর্থিক সহায়ত করা যাবে ০১৯৬৬-৭৮৩৫৫৬ নম্বর বিকাশ অ্যাকাউন্টে।