আসছে পাটকল শ্রমিকদের টানা আন্দোলন কর্মসূচি

আপডেট: 01:37:48 09/01/2018



img
img

খুলনা অফিস : খুলনাসহ সারাদেশের পাটকল শ্রমিকরা ২১ দিনের টানা আন্দোলন ও ১২ দিন মিলের চাকা বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করার পর মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) আরো এক মাসের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিতে চলেছেন শ্রমিকনেতারা। শ্রমিকদের নতুন করে টানা এক মাসের এ আন্দোলনের ঘোষণায় চরম বিপর্যয়ে পড়তে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাট সেক্টর।
আজ বেলা ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন দেশের ২৬টি পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা। সে ক্ষেত্রে ১৫ জানুয়ারি থেকে নতুন আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হবে বলে ঢাকা থেকে ফোনে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেন।
সোমবার বেলা ১১টায় মজুরি কমিশন, বকেয়া মজুরি-বেতন, বন্ধ মিল চালু, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে সংস্কার করা, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুটমিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ এবং মজুরি বৈষম্য দূর করাসহ ১১ দফা দাবিতে বিজেএমসির সভা কক্ষে দ্বিতীয় দিনের বৈঠক করেন ২৬টি পাটকলের শ্রমিকনেতারা। বৈঠকে মজুরি কমিশন ঘোষণা ও সকল বকেয়া মজুরি-বেতনসহ ১১ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ঘোষিত হতে যাওয়া কর্মসূচির মধ্যে থাকছে ভুখা মিছিল, লাল পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ, ঘেরাও, স্মারকলিপি প্রদান, রাজপথ রেলপথ অবরোধ, হরতাল প্রভৃতি। এসব কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করবেন বলে জানান সোহরাব হোসেন।
আগামী শুক্রবার খালিশপুর জুটমিলের সামনে শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এক মাসের টানা আন্দোলন শুরু হবে। এতে সক্রিয় থাকতে সব মিলশ্রমিককে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাবেন নেতারা।
সোহরাব হোসেন বলেন, ‘১১ দফা দাবি বিশেষ করে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরির দাবিতে গত ১৮ ডিসেম্বর আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। ২৮ ডিসেম্বর খুলনার সব মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। শুধু খুলনা নয়, সারাদেশের পাটকলে একই আন্দোলন চলছে। কিন্তু বিজেএমসি সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।’
‘শ্রমিকদের দাবি, মজুরি-বেতন ছাড়া ধুকে ধুকে মরার চেয়ে মিল বন্ধ করে আন্দোলনে মৃত্যুবরণ করা ভালো, যোগ করেন শ্রমিকনেতা সোহরাব হোসেন।
এদিকে খুলনার-যশোর অঞ্চলের নয়টি পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা ঢাকায় অবস্থান করলেও তারদের অবর্তমানেই শ্রমিকরা আন্দোলন অব্যানহত রেখেছে। সোমবার বেলা সোয়া দুইটায় প্লাটিনাম জুটমিলের সামনে রেললাইনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। খালিশপুর জুটমিলে শ্রমিকরা চাঁদা তুলে রেললাইনের ওপর খিচুড়ি রান্না করে শ্রমিক পরিবারগুলোকে খাবার দিচ্ছেন।