আড়াই কোটি টাকা নিয়োগবাণিজ্য : প্রক্রিয়া স্থগিত করলেন ডিসি

আপডেট: 07:32:13 08/09/2017



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে আশাশুনি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগ পরীক্ষা। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিয়োগ কমিটির সভাপতি শুক্রবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেন।
আশাশুনিতে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সুবর্ণভূমিসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এসব সংবাদ জেলা প্রশাসকের নজরে এলে তিনি এ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের নির্দেশ দেন।
এদিকে, নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনটি অভিযোগ এসেছে। জেলা শিক্ষা অফিসারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের জবাব দিতে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. শামসুন্নাহারকে বলা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। সকল বিষয়ে তদন্ত করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’
উল্লেখ্য, আশাশুনিতে ৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগে ওঠে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে নিয়োগের বিপরীতে প্রার্থীদের কাছ থেকে মাথা প্রতি ছয় লাখ থেকে আট লাখ টাকা করে আদায় করা হয়। এই হিসেবে কমছে কম আড়াই কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, বুধবার উপজেলার নয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অবশিষ্ট ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করার কথা। এরই মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়োগের কথা বলে পছন্দের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগাম টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একজন প্রার্থী হাবিবুল্লাহ গাজি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। এতে তিনি নিয়োগে চরম দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন।
বুধবার অনুষ্ঠিত নয়টি স্কুলের মৌখিক পরীক্ষার আগেই টাকার বিনিময়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়ায় কমপক্ষে পাঁচটি স্কুলে টাকা প্রদানকারী প্রার্থী ছাড়া আবেদনকারী অন্য কেউ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে যাননি।

আরও পড়ুন