আয় ১০ গুণ বেড়ে কোটিপতি লুৎফুল্লাহ

আপডেট: 07:13:35 06/12/2018



img

আব্দুস সামাদ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে আওয়ামী লীগের পাঁচজন বিদ্রোহীসহ বিভিন্ন দলের ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১৪ দল মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ পাঁচ বছরে প্রায় ১০ গুণ আয় বেড়ে কোটিপতি হয়েছেন। এই পাঁচ বছরে তার বেড়েছে অস্থাবর সম্পদ।
এদিকে কৌশলগত কারণে বিএনপি থেকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও তার স্ত্রী শাহানারা পারভীন বকুল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অস্থাবর সম্পত্তির দিক দিয়ে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের চেয়ে তার স্ত্রী এগিয়ে আছেন। প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হাবিবের বিরুদ্ধে। তার নামে হত্যাসহ ১৬টি মামলা রয়েছে।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সাড়ে ১৫ বিঘা কৃষি জমি আছে। ভ‚মি মালিক হিসেবে তিনি এগিয়ে আছেন অন্যদের চেয়ে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখত ও তার স্ত্রীর কোটি টাকার সম্পদ আছে।
নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোয়নপত্রের হলফনামা থেকে এমন তথ্য মিলেছে।

অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ
সংসদ সদস্য হিসেবে ভাতাকে পেশা দেখিয়েছেন ১৪ দল মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি। তার বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৪৬ টাকা। ‘বামপন্থী’ ওয়ার্কার্স পার্টির এই নেতা পাঁচ বছরে কোটিপতি হয়েছেন। এই পাঁচ বছরে তার বেড়েছে অস্থাবর সম্পদ। তার নামে এক কোটি চার লাখ ৫০ হাজার ৩৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তার নামে নগদ ৪৭ লাখ ১২ হাজার ৮৮৮ টাকা, ব্যাংকে জমা তিন লাখ ৮২ হাজার ৪০২ টাকা, ৪৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের প্রাডো জিপ ও একটি এক লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল, চার লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজ ও এসি, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও দুই লাখ ৬৮ হাজার টাকার পিস্তল ও পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেল রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নামে ১২ হাজার টাকা মূল্যের অকৃষি জমি ও ১১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বাড়ি রয়েছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় দাখিল করা হলফনামায় তার নামে অস্থাবর সম্পদ ছিল এক লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল। বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসেবে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে ১০ গুণের বেশি।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব
সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাশ। তিনি ঠিকাদারি পেশায় যুক্ত আছেন। এছাড়া কৃষি খাত, বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৩ টাকা। হাবিবের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে নগদ ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৮০৩ টাকা, ব্যাংকে জমা ২০ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৭ টাকা, দশ ভরি স্বর্ণ, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ১৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ট্যাংকলরি রয়েছে। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৯ টাকা, ১৫ লাখ টাকার এফডিআর, আট লাখ টাকার প্রাইভেট কার, দশ ভরি স্বর্ণ ও তিন লাখ ৩০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
হত্যা, হত্যার প্রচেষ্টা, চাঁদাবাজি, বিস্ফোরকদ্রব্য, মাদক, প্রতারণা, দুর্নীতি, অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৬টি মামলা রয়েছে বিরোধী দলের প্রভাবশালী এই নেতার বিরুদ্ধে। এসব মামলার মধ্যে সাতটির কার্যক্রম স্থগিত, পাঁচটি বিচারাধীন ও চারটি তদন্তাধীন রয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিব ২ দশমিক সাড়ে ১১ একর কৃষিজমি, ৪৪ দশমিক ৭৫ শতক অকৃষি জমি, পৈত্রিক ভিটায় দুই তলা বাড়ি ও রাজধানীর বনানীতে ছয় তলা একটি ভবনের মালিক তিনি। এছাড়া তার স্ত্রীর নামে আট বিঘা কৃষি জমি ও ধানমন্ডিতে একটি বাড়ি রয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বর্তমানে এক কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৭ টাকা ঋণী।

মুজিবুর রহমান
সাতক্ষীরা-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ৭১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ ও সাড়ে ১৫ বিঘা কৃষি জমিসহ দুই লাখ ৭৪ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
এই প্রার্থী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার (সিভিল)। তিনি রাজনীতি ও বিভিন্ন ফার্মে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তার বার্ষিক আয় পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আয় করেন এক লাখ ৪২ হাজার ২৮৩ টাকা, পরামর্শক হিসেবে আয় ৩৮ হাজার টাকা, সম্মানী হিসেবে আয় দুই লাখ দশ হাজার টাকা, মাছের খামার থেকে আয় দুই লাখ নয় হাজার ৭১৬ টাকা।
শেখ মুজিবুর রহমানের অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঋণপত্র, ৫৫ লাখ টাকার প্রাডো জিপ, ২২ তোলা স্বর্ণ (৪০ হাজার টাকা), দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও এক লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
এছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তার নিজ নামে সাড়ে ১৫ বিঘা কৃষিজমি, ৫ শতক অকৃষি জমি ও দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে সাত বিঘা কৃষি জমি, পাঁচ শতক অকৃষি জমি, দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাড়ি রয়েছে।

সৈয়দ দীদার বখত
সাতক্ষীরা-১ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ দীদার বখেতের নামে দশ তোলা সোনাসহ ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০ টাকার অস্থাবর ও ১৭ দশমিক ৯৭ একর জমিসহ ৩২ লাখ ৪২ হাজার ১৪৪ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এমএ পাশ সৈয়দ দীদার বখ্ত পেশায় কলাম লেখক ও সাংবাদিক। তার বার্ষিক আয় কৃষিখাতে এক লাখ আড়াই হাজা টাকা। বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে আয় দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে জমা ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০ টাকা ও দশ তোলা স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৭ দশমিক ৯৭ একর কৃষি জমি ও ৩২ লাখ ৪২ হাজার ১৪৪ টাকার বাড়ি রয়েছে।
তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা জমা, ২০ লাখ ৫১ হাজার ১৪৯ টাকার এফডিআর, দশ লাখ ২০ হাজার ২৬৬ টাকার আসবাবপত্র ও ৩৫ লাখ ৪২ হাজার ১৪৪ টাকার অন্যান্য সম্পদ রয়েছে।
এছাড়াও এই আসনে লড়তে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাসদের শেখ মো. ওবায়েদুস সুলতান বাবলু, ইসলামী আন্দোলনের এফএম আছাদুল হক, কমিউনিস্ট পার্টির আজিজুর রহমান, এনপিপির আব্দুর রশিদ।

আরও পড়ুন