আ. লীগ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ সভাপতির

আপডেট: 06:47:09 10/09/2017



img

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বিরুদ্ধে সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন হয়েছিল দুইদিন আগে। আজ তার পাল্টা জবাব দিলেন সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু আরেক সংবাদ সম্মেলনে। রোববার দুপুরে লোহাগড়া পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন।
এতে বলা হয়, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো মিথ্যা। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু কোনো দিন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বরং তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের পৃষ্টপোষকতা করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতা এস এম হায়াতুজ্জামানকে লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগে সহযোগিতা করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিএনপির সাবেক এমপি মকবুল হোসেনকে প্রধান অতিথি করে বই বিতরণ এবং তার নামে একটি ভবনের নামকরণ করে সমালোচনার মুখে পড়েন লিটু।’
বলা হয়, ‘সে ছাত্রজীবনে ঢাকায় থাকাকালে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ-প্রকাশের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে এলাকায় এসে টাকার জোরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এখন দলীয় আদর্শ পরিপন্থী কাজ করছে। গত ইউপি, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে সমালোচনার মুখে পড়ে সে।’
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি অভিযোগ করেন, তিনি (সাধারণ সম্পাদক) জিআর, টিআর, কাবিখা, কাবিটার নামে প্রকল্প এনে কাজ না করে প্রায় অর্ধশত কেটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক অনুসন্ধান করে তার নামে লোহাগড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলার সাক্ষী ও নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা শেখ বুলবুল আহম্মদকে (৪৭) তার অনুগত বাহিনী মারধর করে সাক্ষ্য প্রদানে বাধা দিচ্ছে।
সভাপতি বলেন, ‘সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু স্বেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ ও ভূমিদস্যু। তিনি লোহাগড়া শহরসহ আশপাশের এলাকায় নামে-বেনামে জমির মালিক বনে গেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদকের অপসারণ দাবি করেন সভাপতি রুনু শিকাদার।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শিকদার আজাদ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল করিম মুন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক খান এ কাইয়ুম চুন্নু, পৌর সভাপতি কাজী বনি আমিন, নলদী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখী, লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল সিকদার, কোটাকোল ইউপি চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে আব্দুল হান্নান রুনু সভাপতি ও সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু সভাপতি ও সম্পাদকের মতবিরোধের কারণে দীর্ঘ আড়াই বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে তারা পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। এমনকী একে অন্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে নানা অভিযোগ তুলছেন।

আরও পড়ুন