ইজতেমায় আখেরি মোনাজাত আজ

আপডেট: 02:13:59 21/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত হতে পারে। মোনাজাতের আগে অনুষ্ঠিত হবে হেদায়তি বয়ান।
তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিদের পরামর্শের ভিত্তিতে গত পর্বের মতো এ পর্বেও বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়েরের আরবি ও বাংলায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করার কথা রয়েছে। মোনাজাতে বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ার মানুষের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে। বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষ মোনাজাত মঞ্চ থেকেই এ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হবে। আখেরি মোনাজাতে ২০ থেকে ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের ধারণা।
এদিকে গত পর্বের মতো এপর্বেও বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়নি। তাবলিগ জামাতের আগামী ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে  প্রথম পর্ব এবং ২৫ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্ব টঙ্গীর তুরাগ তীরে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজ।
এদিকে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে শিল্পশহর টঙ্গী এরই মধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকালেই টঙ্গী শহর এবং ইজতেমাস্থল ও এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ লাখ মুসল্লির পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে।
ইসলামি দাওয়াতের মাধ্যমে ঈমান আকিদা বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে ইহলোকিক ও পারলৌকিক মঙ্গল কামনার জন্য মুসল্লিরা দূর-দূরান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। এই পর্বের ইজতেমায় ঢাকার একাংশসহ দেশের ১৩টি জেলার মুসল্লিরা ২৮ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন।
আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শনিবার দিনগত রাত থেকে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমা নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

৮০টি দেশের প্রায় চার হাজার বিদেশি মুসল্লি
শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ৮০টি দেশের প্রায় চার হাজার বিদেশি মুসল্লি অংশ নেন। তাছাড়া এপর্বে ঢাকার একাংশসহ দেশের ১৩টি জেলার কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজীপুরে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

বিশেষ ট্রেন
এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে ২৯টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা উপলক্ষে এসব ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে।
টঙ্গী রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত টঙ্গী থেকে জামালপুর, আখাউড়া, লাকসাম রুটসহ কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চলবে। আখেরি মোনাজাতের দিন টঙ্গী থেকে ঢাকা, লাকসাম, আখাউড়া, ময়মনসিংহ ও ঈশ্বরদী রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে। আখেরি মোনাজাতের পরের দিন টিকেটধারী মুসল্লিরা যাতে উঠতে পারেন সেজন্য সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে। এছাড়া ইজতেমায় আগত যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে অতিরিক্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মোনাজাতের দিন চলবে শাটল বাস
গাজীপুরের পুলিশ সুপার জানান, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার আখেরি মোনাজাতের দিন বিকেল পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে আব্দুল্লাহপুর এবং টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের মীরের বাজার থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড হয়ে কামারপাড়া ও সাভারের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। সেজন্য মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে আখেরি মোনাজাতের দিন রোববার ভোর থেকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকা থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত মুসল্লিদের সুবিধার্থে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় অর্ধশত শাটল বাস (ইজতেমার স্টিকার লাগানো) চলাচল করবে।

নৌযান চলাচলে নির্দেশনা
বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত টঙ্গী সেতু থেকে কামারপাড়া সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল ও নোঙর বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে নৌযানগুলো টঙ্গী সেতুর পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া ব্রিজের উত্তর পাশে নোঙর করতে পারবে। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও সদরঘাট থেকে ছয়টি ওয়াটার বাস টঙ্গী পর্যন্ত মুসল্লি বহন করবে।

ইজতেমার ইতিহাস
ইজতেমার মুরুব্বিদের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লোকসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে বর্তমান স্থানে ইজতেমা স্থানান্তর করা হয়। পরে সরকারিভাবে তুরাগ তীরে ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বের ইজতেমা শুরু হয়।
সূত্র : এনটিভি

আরও পড়ুন