ইটভাটার ট্রাক্টরে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ জনপথ

আপডেট: 07:20:01 11/05/2018



img

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ইটভাটায় মাটি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাক্টরে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ জনপথ। ফলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এই অবস্থা ঝিনাইদহের হরিশংকরপুর ইউনিয়নের একাধিক সড়কের।
সবচে’ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওই ইউনিয়নের পোড়াবাকড়ি গ্রামের সড়কগুলোর। ওই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার মসজিদে যাওয়া একমাত্র সড়কটিতে ইতিমধ্যে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যা চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। পায়ে হেঁটেও মসজিদে যাওয়া যাচ্ছে না। এই মাটিটানা গাড়ি চলাচলের বিষয়ে তারা কথা বললেও মাটি কেনা-বেচার সঙ্গে যুক্তরা তা মানছেন না। ফলে গোটা ইউনিয়নের সড়কগুলো দ্রæতই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশংকা ইউনিয়নবাসীর।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দশ নম্বর হরিশংকরপুর ইউনিয়নে ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এরমধ্যে সাত কিলোমিটার পাকা, ইটবিছানো তিন কিলোমিটার আর ৫০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক রয়েছে। যে সড়কগুলো দিয়ে স্থানীয় জনসাধারণ চলাচল করে। সড়কগুলোর বেশিরভাগই চলাচলের উপযোগী ছিল। এরমধ্যে ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়ের গোয়ালপাড়া বাজার থেকে শৈলকুপা উপজেলা ভায়া হরিশংকরপুর ইউনিয়ন সড়কটি ভাঙাচোরা থাকলেও তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।
হরিশংকরপুর ইউনিয়নে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ বসবাস করেন। এখানে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচটি মাদরাসা রয়েছে। ইউনিয়নে বাজার রয়েছে চারটি। সেখানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া আর বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সড়কগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গোটা এলাকার সড়কগুলো এখন ইটভাটার মাটিটানা ট্রাক্টরের দখলে চলে গেছে। তারা মাটি বোঝাই করে ওই সড়কগুলোর ওপর দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ সড়কের।
ওই ইউনিয়নের পোড়াবাকড়ি গ্রামের আবু সাঈদ জানান, ইটভাটার মাটি টানা ট্রাক্টর তাদের এলাকার সড়ক সব শেষ করে দিচ্ছে। তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া কাঁচা সড়কটিতে ইতিমধ্যে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
একই গ্রামের ফারুক খান জানান, তাদের গ্রামের পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি এখন আর ব্যবহার-উপযোগী নেই। এই সড়ক দিয়ে তারা একসময় ভালোভাবে চলাচল করতে পারতেন। এখন চলাচল করা দুরূহ।
তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজন প্রতিবাদ করলেও মাটি কেনা-বেচার সঙ্গে যুক্তরা শুনছেন না।
নরহরিদ্রা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, ছোট ছোট সড়কের পাশাপাশি বড় সড়কগুলোও মাটিটানা ট্রাক্টরের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পিচের সড়কগুলোর ওপর থেকে পিচ-পাথর উঠে যাচ্ছে। যেভাবে মাটির ট্রাক্টর সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করছে তাতে গ্রামের কোনো সড়কই ভালো থাকবে না। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে মাটি কাটানোর সঙ্গে যুক্ত তুহিন ইসলাম জানান, তিনি মাটি দিয়ে টাকা নিচ্ছেন না। তবে তার পুকুর কাটা প্রয়োজন হওয়ায় ভাটার লোকজনকে মাটি দিচ্ছেন। তারা নিজেদের খরচে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
এতে সড়কের সমস্যা হচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, তার জায়গা থেকে মাটি নেওয়ায় যে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে সেটা মাটি টানা শেষে ঠিক করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
হরিশংকরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো ভালো রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। হাজার হাজার মানুষের চলাচলের সড়ক বিশেষ কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যাবে এটা ঠিক নয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যেভাবে মাটির ট্রাক্টর চলছে তাতে সড়কগুলো দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলের দায়িত্ব রয়েছে জনগণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়কগুলো দেখে রাখা।’

আরও পড়ুন