ইদ্রিসের স্বপ্ন

আপডেট: 02:40:17 06/07/2017



img

তামান্না মোমিন খান : ইদ্রিস আলী। ছোটবেলা থেকেই দুরন্ত। দ্রুতগতি তার সব সময় পছন্দ। শৈশব থেকেই তার স্বপ্ন ছিল গাড়ির চালক হওয়ার। হয়েছিলও। ১৫ বছর বয়সে প্রথম  চালানো শুরু করে কাভার্ডভ্যান। সকালে ঢাকা তো বিকালে চট্টগ্রাম- এভাবেই ছুটে চলতো ইদ্রিস। কিন্তু তিন বছর আগে একটি দুর্ঘটনা সবকিছু ওলটপালট করে দেয় তার জীবন। নেমে আসে জীবনে ঘোর অন্ধকার। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য আনার পথে খাদে পড়ে যায় কাভার্ড ভ্যানটি। এরপর আর কিছুই মনে নেই তার। যখন সংজ্ঞা ফেরে তখন সে হাসপাতালের শয্যায়। সারা শরীরে ব্যান্ডেজ। ডান হাতটা নাড়ানোর চেষ্টা করেও পারছিল না। তখনও জানতো না ইদ্রিস, তার ডান হাতটি কেটে ফেলা হয়েছে। তিন মাস রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কিছুতেই জীবনের অঙ্কটা মিলাতে পারছিল না ইদ্রিস। কোথায় যাবে, কী কাজ করবে, কিছুই ভাবতে পারছিল না সে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে চলে যায়। বাবা-মা আর চার ভাইবোনের অভাবের সংসারে নিজেকে বড় বোঝা মনে হয় ইদ্রিসের। গ্রামে কাজের অনেক চেষ্টা করেও কোনো কাজ পায়নি সে। সবাই ভাবত বাম হাতে সে কোনো কাজ করতে পারবে না। কাছের লোকেরা অনেকেই  তখন  ঢাকায় এসে ভিক্ষাবৃত্তি করার পরামর্শ দিয়েছিল ইদ্রিসকে। পরিবারের ওপর অভিমান করে ঢাকায় চলে আসে ইদ্রিস। তবে ভিক্ষাবৃত্তি নয় শরীরের শেষশক্তি দিয়ে হলেও এক হাতে কাজ করবে সে। এ ইচ্ছাশক্তি থেকেই  এক হাতেই রিকশা চালানো শুরু করে ইদ্রিস। তিন বছর এক হাতে রিকশা চালায়।
ইদ্রিস জানায়, প্রথম প্রথম এক হাতে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হতো। কিন্তু এখন আর হয় না। এক হাতে রিকশা চালাই দেইখ্যা  অনেক যাত্রী আমার  রিকশায় উঠতে চায় না। আবার অনেক যাত্রী রিকশায় উইঠ্যা যা ভাড়া তার চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়া যায়। প্রতিদিন ৫০০  টাকার  মতো আয় করে সে। এর মধ্যে একশ টাকা রিকশার মালিককে জমা দিতে হয় আর বাকিটা তার থাকে। এখনও বিয়ে করেনি ইদ্রিস। সে স্বপ্ন দেখে, তার একটা সংসার হবে। যেখানে বউ থাকবে। বাচ্চা থাকবে। আর নিজের একটা রিকশা থাকবে। সেই  রিকশায় করে মাঝে মাঝে বউ-বাচ্চাকে ঘুরাতে নিয়ে যাবে।
সূত্র : প্রথম আলো

আরও পড়ুন