ইন্দোনেশিয়ায় সুনামিতে নিহত প্রায় চারশ’

আপডেট: 07:11:07 29/09/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও বিপণিবিতান।
আজ শনিবার দেশটির দ্বীপ এলাকার পালু শহরে দশ ফুট উঁচু সুনামির আঘাত উপকূলীয় এলাকায় এই বিপুল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ সংস্থার বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে এ পর্যন্ত ৩৮৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং এতে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরয়ো নুগোরো বার্তা সংস্থাকে বলেন, ‘আমরা হালনাগাদ তথ্য পাচ্ছি না। কারণ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে। সুনামির কারণে উপকূলীয় এলাকায় বহু মানুষের মৃতদেহ পাওয়া যেতে পারে। তবে এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানুষজন ছোটাছুটি করছে এবং শহরের সবচেয়ে বড় একটি মসজিদের ভবন ধসে গেছে।
গত মাসেও বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পের কবলে পড়ে ইন্দোনেশিয়া। আগস্টের ৫ তারিখে আঘাত হানা ভূমিকম্পে দেশটিতে ৪৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
গতকাল ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে তিন লাখ মানুষ অধ্যুষিত পালু শহরজুড়ে এবং ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে পাশের মৎস্যজীবীদের শহর ডোঙ্গালার বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং এ কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা প্রধান দ্বিকরিতা কর্নওয়াতি বলেন, ‘সুনামি থেমে গেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়, মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছে, ধসে যাওয়া দালানের নিচে বা উপকূলে থেমে থাকা জাহাজে কেউ আটকে আছে কি না, তা দেখার চেষ্টা করছে।’
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ভারত মহাসাগরের উপকূলজুড়ে দুই লাখ ২৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। নিহতদের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার ইন্দোনেশীয় ছিল।
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। কারণ এটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক ভয়াবহ এক আগ্নেয়গিরির চক্রের ওপরে অবস্থান করছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ওপর যাদের অবস্থান সারা দুনিয়ার এমন যত জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে তাদের অর্ধেকের বেশি এই চক্রের অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এনটিভি

আরও পড়ুন