ইসরায়েলি সেনার গালে সপাটে চড় বসানো কিশোরী

আপডেট: 03:04:31 03/01/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ১৬ বছরের ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তার বাড়ির সামনে ইসরায়েলি এক সৈন্যের গালে সপাটে চড় বসিয়ে দেয়। গ্রেফতারের পর সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে সে এখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন তার চড় মারার সেই ফুটেজ ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।
ইসরায়েলের বাম-ঘেঁষা দৈনিক হারেতজ লিখেছে, ইসরায়েল যদি আহেদ তামিমির বিচার নিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে এই কিশোরী হয়তো "ফিলিস্তিনি জোয়ান আর্ক হয়ে উঠবে।"
অন্যদিকে দক্ষিণ-পন্থী ইসরায়েলিরা সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করে লিখছে, কেন তারা ওই ফিলিস্তিনি কিশোরীর মুখে পাল্টা চড় মারলো না।
ঘটনাটি ঘটে দু সপ্তাহ আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবি সালেহ নামের একটি গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামের লোকজন প্রতি সপ্তাহে একদিন ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ওই বিক্ষোভের সময় ইসরায়েলি সৈন্যদের সঙ্গে আহেদ তামিমির ধাক্কাধাক্কি হচ্ছে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী সপাটে চড় বসিয়ে দেয় এক সৈন্যের গালে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, চড় খেয়ে ওই সেনাসদস্যের ভ্রু কেটে গেছে। আহেদ তামিমির বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচণায় সহিংসতা এবং দায়িত্ব পালনে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সামরিক আদালতে সে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলে এ ধরনের অপরাধে, একজন প্রাপ্তবয়স্কের দশ বছরের সাজা হতে পারে। কিন্তু আইনজীবীরা বলছেন, কম বয়সের কারণে হয়তো লঘু সাজা হতে পারে এই কিশোরীর।
তার বিচার নিয়ে যখন টানাহেঁচড়া চলছে, একটি চড় মেরে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলনের নতুন এক প্রতীক হয়ে উঠেছে ১৬ বছরের আহেদ তামিমি। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে আলোচনা-বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সে।
এই ধরনের দুঃসাহসিক কাজ এই কিশোরী আগেও করেছে।
দু বছর আগে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টার সময় সে ইসরায়েলি সৈন্যের হাত কামড়ে দিয়েছিল। তারও আগে ২০১২ সালে ইসরায়েলি সৈন্যদের সাহসের সঙ্গে মোকাবেলার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইপ এরদোয়ান তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। আহেদ তামিমির বয়স তখন ছিল মাত্র ১১ বছর।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন