ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ বাধতে পারে কি

আপডেট: 12:40:49 22/01/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : এক সময় বিশ্লেষকরা মনে করতেন যে, সিরিয়া বা লেবাননের পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল আর ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা যতই তীব্র হোক, বা বিক্ষিপ্ত আক্রমণের ঘটনা যতই ঘটুক, একেবারে সরাসরি যুদ্ধ বেধে যাওয়া- সেটা হয়তো হবে না।
কিন্তু ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত এলাকার কৌশলগত প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে।
সোমবার রাতে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের আশপাশে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরকারপন্থী অন্তত ১১ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনাকে এ আলোকেই দেখতে হবে। ইসরায়েল সাধারণত সিরিয়ার ভেতরে তাদের আক্রমণ চালানোর কথা খুব একটা স্বীকার করে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা অভিযান শুরু হতেই তা টুইট করে জানিয়ে দিয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষক জোনার্থন মার্কাস লিখছেন, সেখানে সক্রিয় যেসব প্রধান শক্তি তারা নতুন পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলের জন্য এই অঞ্চলে 'ইরানি প্রভাব মোকাবিলা' বহু পুরনো এজেন্ডা।
ইরানের নেতারা ইহুদি রাষ্ট্রটির ঘোরতর বিরোধী এবং তারা 'ইসরায়েলকে পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার' কথা বলেছেন। ইসরায়েলবিরোধী অনেক উগ্র গোষ্ঠীকে সমর্থনও দিচ্ছেন। তাদের পরমাণু কর্মসূচিই যে শুধু ইসরায়েলের মাথাব্যথার কারণ তা নয়- ইরানের হাতে আছে দীর্ঘপাল্লার এবং জাহাজ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো উন্নত অস্ত্রও। এসব অস্ত্র লেবাননের হিজবুল্লাহকে দিয়েছে ইরান।
সিরিয়ায় ইরানের নিয়মিত বাহিনীর সৈন্য, কর্মকর্তা ও সামরিক উপদেষ্টা ছাড়াও কুদস নামে মিলিশিয়া বাহিনীও আছে, যারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে।
সিরিয়ায় যুদ্ধে আসাদের সমর্থনে ইরানসমর্থিত একাধিক বাহিনী এখন সেখানে সক্রিয়। আর তাই তারা এখন ইসরায়েলের সীমান্তের খুব কাছে চলে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদ সিরিয়ার ক্ষমতায় টিকে গেছেন এবং সেটা প্রধানত ইরানের সমর্থনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়ার মাটি থেকে হাজারদুয়েক মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ আছে। গত সপ্তাহেও রুশ কর্মকর্তারা ইসরায়েল সফর করেছেন।
রাশিয়া যদিও বাশার আসাদের সমর্থক, কিন্তু তারা সিরিয়ায় ইরানি প্রভাব কমাতে বা উচ্ছেদ করতে কোনো চাপ প্রয়োগ করছে না।
ইসরায়েলিরা বলছে, সিরিয়ার ভেতরে সম্প্রতি অস্ত্রগুদাম, ব্যারাক, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইত্যাদি তৈরি করেছে ইরান।
গত এপ্রিলে পালমিরার কাছে ইসরায়েল তাদের ভাষায় একটি ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্রের ওপর বিমান আক্রমণ চালায়। এতে কয়েকজন ইরানি সামরিক উপদেষ্টা নিহত হন।
ইরান এর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করে। এরপর দুই পক্ষ থেকেই বিক্ষিপ্ত আক্রমণের ঘটনা ঘটে চলেছে।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক প্রধান লে. জেনারেল গাদি আইসেনকোট সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার 'হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে' আক্রমণ চালিয়েছে।
সোমবার রাতের ঘটনা তার সবশেষ দৃষ্টান্ত। ইসরায়েলি বাহিনী বলছে, ইরানি কুদস বাহিনী সিরিয়ার ভেতর থেকে গোলান উপত্যকা লক্ষ্য করে একটি রকেট নিক্ষেপ করেছিল, যা আটকে দেয় ইসরায়েলের 'আয়রন ডোম' নামের প্রতিরোধী ব্যবস্থা।
এর আগে ইসরায়েল মূলত হিজবুল্লাহকে দেওয়া ইরানি অস্ত্রের চালান বহনকারী যানগুলোতে আক্রমণ চালাতো।
কিন্তু ইরান এখন কৌশল বদলে ফেলেছে। তারা পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে শিয়া যোদ্ধাদের এনে এক লাখ সদস্যের এক বাহিনী গড়ে তুলছে। তা ছাড়া সিরিয়ান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিগুলোয় গড়ে তুলছে গোয়েন্দা কেন্দ্র।
আর এর পর থেকে ইসরায়েল সরকার তার সেনাবাহিনীকে প্রায় প্রতিদিনই সিরিয়ায় আঘাত হানার অনুমতি দিয়েছে, বলছেন জেনারেল আইসেনকোট।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনা সহসাই এমন এক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে, যাতে এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে যেতে পারে।
জোনাথন মার্কাস বলছেন, ইসরায়েলের এ যুদ্ধ চলতে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে এবং ইসরায়েলের সবশেষ এ আক্রমণের তীব্রতায় বোঝা যায় যে পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
[বিবিসির বিশ্লেষণ]

আরও পড়ুন