এই সড়কে রাতে চলাচল বন্ধ

আপডেট: 01:47:47 16/05/2018



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দক। পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে এসেছে। কোথাও আবার দেখা দিয়েছে বড় গর্তের। তাই রিকশা কিংবা অটোরিকশা, নসিমন যাত্রীদের প্রচণ্ড ঝাঁকুনির মধ্যেই পথ চলতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর যানবাহন চলাচল বন্দ হয়ে যায়। এ অবস্থা নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের তুলারামপুর-শেখহাটি সড়কের ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৪ বছর ধরে সড়কটি ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকলেও তা সংস্কারে সংশ্লিষ্টরা কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। ফলে নড়াইল এবং যশোর জেলার একাংশের তিনটি ইউনিয়নের মানুষদের ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এটিই তাদের প্রধান সড়ক। সবশেষ ২০০২ সালে এটি সংস্কার করা হয়েছিল।
শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বুলবুল আহম্মেদ বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে নড়াইল ও যশোরের ২২টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সংস্কারের জন্য অনেকবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নড়াইল কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
তিনি বলেন, ২২টি গ্রামের (নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ও বিছালী ইউনিয়নের ১৬টি এবং যশোরের ছয়টি) কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করে। দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সন্ধ্যার পর এ সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করে না।
সরেজমিন দেখা গেছে, ১৬ কিলোমিটার সড়কের তুলারামপুর, মালিয়াট, হাতিয়ারা, মান্দিয়া, গুয়োখোলা, আফরা অংশে ভাঙাচোরা বেশি। উঁচু-নিচু সড়কটিতে স্থানে স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় বহু গর্ত। এর মধ্যে দশটি গর্ত কোমরসমান। এলাকার মানুষ পথচারীদের সতর্ক করতে গর্তের মধ্যে বাঁশ রেখে ওপরে কাপড় টানিয়ে দিয়েছেন। রাস্তার এই দুরবস্থার কারণে প্রায় ১৪ বছর ধরে এ সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ।
সড়কের ছবি তুলতে গেলে মান্দিয়া গ্রামের কালী অধিকারী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ছবি তুলে কী হবে? কতজনে দেহে যাচ্ছে, রাস্তার মাপ নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘সন্দের পর এ রাস্তায় কেউ গাড়ি চালায় না। মোটরসাইকেল চালাতি যায়ে অনেকে গর্তে পড়ে হাত-পা ভাঙ্গিছে।’
হাতিয়ারা গ্রামের নসিমনচালক নন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘রাস্তার যে শ্রী তাতে দিনির বেলায়ই গাড়ি চালানো যায় না। সন্দের পর গাড়ি চালানো বন্দ। অপরিচিত মানুষ গত্তের মদ্দি পড়ে কতজনের হাত-পা ভাঙ্গিছে তার হিসেব নেই।’
বাকলি গ্রামের কবিতা বিশ্বাস, কানন বালা, সরস্বতী বিশ্বাসসহ অনেকে বলেন, রাস্তা ভাঙা থাকায় বয়স্ক ব্যক্তি, নারী-শিশু ও রোগীদের পথ চলতে বেশি সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা প্রায়ই গর্তে পড়ে নসিমন উল্টে পড়ছে। অনেক সময় পথচারীরা হাঁটার সময়ও গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন।
নড়াইল সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোহম্মদ গিয়াস উদ্দীন আহম্মেদ সড়কটির দুরবস্থার কথা স্বীকার করেন। জানান, ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে দশ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, ওই রাস্তায় কেন বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসছে ।

আরও পড়ুন