একের পর এক চেয়ারম্যানের পিটুনির শিকার গ্রামপুলিশ

আপডেট: 02:10:26 05/12/2017



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আবু খসরু (৪৮) ও সিরাজুল ইসলাম (৪০) নামে কাশিমাড়ী ইউনিয়নের দুই গ্রামপুলিশকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে।
লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হলেও আহত দুই গ্রাম পুলিশ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। চাকরি খোয়ানোর ভয়ে তারা কোথাও অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারছেন না। তারা পরিষদেও যেতে পারছেন না।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নে। গ্রামপুলিশকে পেটানোর অভিযোগ স্বীকার করে ‘ডিউটি না করায় শাস্তি দিয়েছি’ বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান।
আহত দুই গ্রামপুলিশ হলেন, শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী গ্রামের আট নম্বর ওয়ার্ডের মুনছুর আলী মোড়লের ছেলে আবু  খসরু (৪৯) ও ঘোলা গ্রামের মো. আব্দুল হান্নান শেখের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৪০)। এর আগে গত নভেম্বর মাসেও গ্রামপুলিশ আশরাফ হোসেনকে পিটিয়ে আহত করেছিলেন ওই চেয়ারম্যান।
আহত দুই গ্রামপুলিশ জানান, গত রোববার সকালে তারা ইউনিয়ন পরিষদে ডিউটিতে আসেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তাদের দুইজনকে ডেকে পরিষদের পশ্চিম পাশের রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া এক যুবককে ধরে আনার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই ওই যুবক চলে যান। ফিরে আসেন দুই গ্রামপুলিশ।
আবু খসরু ও সিরাজুল ইসলাম জানান, ওই যুবককে না পেয়ে ফিরে পরিষদে পৌঁছানোমাত্র চেয়ারম্যান আলমারীর লাঠি বের করে সিরাজুল ইসলামের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে সিরাজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চেয়ারম্যান দৌঁড়ে পাশের রুমে যান এবং সেখানে আত্মগোপন করা আবু খসরুকে পেটাতে শুরু করেন।
ঘটনার তিনদিন পরও শরীরে প্রচ- ব্যথার কথা জানিয়ে তারা বলেন, এ ঘটনার পর লোকলজ্জায় বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না বিধায় গ্রাম্য চিকিৎসক ইউসুফ আলীর শরণাপন্ন হয়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান বাড়িতে ঘটে যাওয়া নানা কারণে মেজাজ হারিয়ে পরিষদে এসে চৌকিদারসহ বিভিন্নজনের ওপর রাগ ঝাড়েন। মেজাজ হারালে তিনি কাউকে বাদ দেন না- উল্লেখ করে এ দুই গ্রাম পুলিশ অভিযোগ করেন, চাকুরি হারানোর ভয়ে তারা কখনো এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস দেখাননি।
এর আগে আশরাফ আলী, আব্দুল করিম ও আব্দুল হাকিমসহ আরো কয়েক গ্রামপুলিশ চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে গ্রামপুলিশ নুর ইসলাম জানান, রফিকুল নামের এক ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢোকায় চেয়ারম্যান তাকে মারধর করেন। এসময় তিনি ওই ব্যক্তিকে বাইরে সরিয়ে দেওয়া চেয়ারম্যানের হাতে আবার মার খান।
এক বছরের ব্যবধানে দুইবার চেয়ারম্যান তাকে পিটিয়েছেন দাবি করে আশরাফ নামে আরেকজন বলেন, ‘আমরা বেতন নেওয়ার জন্য থানায় এসেছি, বিষয়টি আজ ওসি স্যারকে জানাব।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ বলেন, ‘এরা ঠিকমতো ডিউটি করে না। তাই তাদেরকে শাস্তি দিতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন