এদিন মুক্ত হয় মাগুরা

আপডেট: 02:10:13 07/12/2017



img

মাগুরা প্রতিনিধি : আজ ৭ ডিসেম্বর মাগুরা মুক্ত দিবস।
১৯৭১ সালের এই দিনে মাগুরা পাক হানাদারমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে গোটা জেলা। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয় তৎকালীন মহকুমা শহর মাগুরা। উড়তে থাকে স্বাধীন দেশের মানচিত্রখচিত পতাকা।
১৯৭১ এর মার্চে শেখ মুজিবর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাগুরায় সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। প্রাথমিকভাবে মাগুরা শহরের নোমানী ময়দান ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ক্যাম্প স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়। এখান থেকেই সমগ্র মাগুরার প্রতিরোধযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ হতে থাকে ।
পরে অত্যাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত পাক সেনারা মাগুরায় পৌঁছালে মুক্তিযোদ্ধারা শহর ছেড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলী জানান, মাগুরা শহরের পিটিআই, ওয়াপদা ভবন, সরকারি কলেজ, আনসার ক্যাম্প, দত্ত বিল্ডিং দখল করে পাক সেনারা ঘাঁটি স্থাপন করে। পরে স্থানীয় রাজাকার, আলবদরদের সহযোগিতায় তারা মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে ব্যাপক অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে তারা বর্তমান পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে পারনান্দুয়ালী ক্যানেলে লাশ ফেলে রাখে।
মুক্তিযোদ্ধারা জেলার শ্রীপুর, মহম্মদপুর, বিনোদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বীরোচিত যুদ্ধ পরিচালনা করেন। তারা শ্রীপুর ও ঝিনাইদহ মহকুমার শৈলকুপা থানা দখল করে নেন। একাধিক সম্মুখযুুদ্ধে পাক সেনা ও রাজাকারদের হতাহত করেন।
এরই পর্যায়ে ৬ ডিসেম্বর আকাশপথে মিত্র বাহিনীর বিমান হামলা এবং স্থলপথে মুক্তিবাহিনীর চাপে পাক সেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। ৭ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী মাগুরা শহরে প্রবেশ করে পাকবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্প ও গোলাবারুদ দখল করে নেয়। প্রাণভয়ে পাক সেনারা মাগুরা জেলা ছেড়ে কামারখালীতে গড়াই নদী পার হয়ে ফরিদপুরের দিকে চলে যায়।
৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই মাগুরায় মুক্তিবাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। গোটা শহরে উড়তে থাকে স্বাধীন দেশের পতাকা।
মাগুরা মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে র‌্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন