এনজিওর বিরুদ্ধে অর্ধকোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ

আপডেট: 09:29:37 10/04/2018



img
img

রহিদুল ইসলাম খান, চৌগাছা (যশোর) : চৌগাছায় ‘রূপান্তর বহুমুখী সমবায় সমিতি’ নামে একটি স্থানীয় এনজিও প্রতারণা করে গ্রাহকের প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
প্রতারক চক্রটি উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের রানিয়ালি, দুড়িয়ালি, হাউলি, মালিগাতি ও সুরেশ্বরকাঠিসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০০ পরিবারকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চৌগাছা প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
একই চক্র হাউলি গ্রামের মৃত মোক্তার আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফার কাছ থেকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১৯ লাখ পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুক্তার আলী ওই চক্রের হোতা সৈয়দ আলী ও নবাব আলীর নামে রাজধানীর মিরপুর থানায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের মালিগাতি বাজারে ২০১১ সালে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে রূপান্তর বহুমুখী সমবায় সমিতি নামে একটি এনজিও (রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১০৯)  ঋণদান ও সঞ্চয় কার্যক্রম শুরু করে প্রতারক চক্রটি। এনজিওর মালিক হিসেবে পরিচিত হাউলি গ্রামের মৃত নুর আলীর ছেলে সৈয়দ আলী তার ভাই নবাব আলীকে সংস্থাটির সভাপতি সাজিয়ে গ্রামের সহজ-সরল নারীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে ৩৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা হাতিয়ে নেন। বর্তমানে এনজিও-টি তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করে অফিসে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সঞ্চয়ীদের টাকা দেওয়া হবে বলা হলেও দেয়া হচ্ছে না। প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের কাছে বার বার অভিযোগ করে চলেছেন।
এনজিও সমিতির সদস্যরা বলছেন, কথিত এনজিওটির ‘মালিকপক্ষ’ কৌশলে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে নারীদের কাছ থেকে জমাবই নিয়ে নিয়েছে। সুরেশ্বরকাঠি গ্রামের দশরথ বিশ্বাসের স্ত্রী মিরারানি বিশ্বাস, রবীন শীলের স্ত্রী শিল্পীরানি শীল, অলোক শীলের স্ত্রী বীথিকারানি শীল, পরান শীলের স্ত্রী শিউলিরানি শীল, প্রবান বিশ্বাসের স্ত্রী লক্ষ্মীরানি বিশ্বাস, তাপস শীলের স্ত্রী সাধনারানি শীল, কোমল শীলের স্ত্রী সরমারানি শীল, সাধনকুমার বিশ্বাসের স্ত্রী বীথিরানি বিশ্বাস জানান, তারা রূপান্তরের কাছ থেকে তাদের সঞ্চয়কৃত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। তারা একেকজন পাঁচ হাজার, দুই হাজার, ৩০০, এক হাজার ৪০০সহ বিভিন্ন অংকের টাকা পাবেন।
এছাড়া গত বছর দুর্গাপূজার সময় ‘টাকা দিয়ে দেওয়া হবে’ বলে তাদের কাছ থেকে পাশ বই হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন রানীয়ালী গ্রামের অসীম তরফদারের স্ত্রী অঞ্জলিরানি তরফদার, ইন্দ্রভ‚ষণের স্ত্রী ভক্তিরানি ও চিরঞ্জিৎ মণ্ডলের স্ত্রী দুলালী মণ্ডল।
গ্রাম্য মাতবর বলাই তরফদার ও রবিন পরামানিক বলেন, প্রতারক চক্রটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০০ পরিবারের কাছ থেকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে প্রতারণা করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ১৯ লাখ পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে হাউলি গ্রামের মৃত মুক্তার আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে সৈয়দ আলী ও তার ভাই নবাব আলীর নামে ঢাকার মিরপুর থানায় একটি মামলা করেন।
পাশাপোল ইউপি চেয়ারম্যান ওবাইদুল ইসলাম সবুজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীদের ঠকিয়ে এনজিওটির ‘মালিকপক্ষ’ বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ওরা দুই ভাই টাউট প্রকৃতির।’
জানতে চাইলে রূপান্তর বহুমুখী সমবায় সমিতির কথিত মালিক সৈয়দ আলী বলেন, ‘পাশবই নিয়ে টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। একটি মামলা হয়েছে। বর্তমানে সমিতির কর্য়ক্রম বন্ধ রয়েছে।’

আরও পড়ুন