এবার নয়াব আলীর কপালে জুটছে কার্ড

আপডেট: 08:42:35 23/12/2016



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসানের বদান্যতায় দুই প্রকারের কার্ডই জুটলো উপজেলার কদমবাড়িয়া গ্রামের শত বছর বয়সী নয়াব আলী সানার। তার বয়স্কভাতা ও দশ টাকার চালের কার্ডের তালিকা তৈরির প্রস্তুতি চলছে। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে কথা হয় নয়াব আলীর সঙ্গে। তিনি তার জীবনের শেষ মুহূর্তের দুঃখ কষ্টের কথা এই প্রতিবেদককে বলেন। বিষয়টি নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বললে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনা পেয়ে সমাজসেবা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এরপর ঘটনার সত্যতা পেয়ে তারা কাজ শুরু করেন।
খেদাপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশের সদস্য বিনয় দাস জানান, ‘নয়াব আলীর নামে চালের কার্ড মেম্বর দেননি। তার নামে চালের কার্ড প্রস্তুতের জন্য হঠ্যাৎ করে ইউএনও স্যার ইউনিয়নের সচিব মৃণাল কান্তিকে বলেন। সচিব আমাকে ডেকে নয়াব আলীর কাছ থেকে ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়ে জমা দেয়ার কথা বলেন। কয়েকদিন আগে আমি তা পরিষদে জমা দিয়েছি।’
খেদাপাড়া ইউনিয়নের সমাজসেবাকর্মী মোবারেক হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ইউএনও স্যার আমাকে ডেকে নয়াব আলীর বয়স্কভাতার কার্ড প্রস্তুত করার জন্য বলেন। স্যারের কথা অনুযায়ী আমি নিজে নয়াব আলী চাচার বাড়ি গিয়ে ছবি তুলে এনেছি। তার বয়স্কভাতার কার্ডের বই তৈরি হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘বৃদ্ধ নয়াব আলীর কথা জানার পর আমি সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছি। সেই অনুযায়ী তারা কাজ করছে।’
নয়াব আলী বয়স্কভাতার কার্ডসহ দশ টাকার চালের কার্ড পাবেন বলে আশ্বস্ত করেন ইউএনও।
মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কদমবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গনি সানার ছেলে হতদরিদ্র বৃদ্ধ এই নয়াব আলী সানা। তার বয়স ১০০ এর কাছাকাছি। বহু বছর ধরে বিভিন্ন বাজার ঘুরে ঘুরে বাদাম, পাকা ফল ও গুড় বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন তিনি। এখন বয়সের ভারে ভেঙ্গে পড়েছেন একেবারেই। কাজ করার সামর্থ তার আর নেই। ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে সবাই বিবাহিত। ছেলেরা আয় করে নিজেদের মত চলে। বৃদ্ধ বাবা-মার খবর রাখে না। তাই পাড়া প্রতিবেশীদের কাছে চেয়ে চিন্তেই দিন চলে নয়াব আলীর। বৃদ্ধ স্ত্রীকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করলেও জনপ্রতিনিধিদের কেউ রাখেননি তার খবর। এবার তার নামে চালেরসহ বয়স্কভাতার কার্ড হচ্ছে জেনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন