এবার মুল্লুক রিপন সঞ্জয়ের নামে বাবুর মামলা

আপডেট: 07:48:13 11/05/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি নেতা ও যশোর বড়বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ ও তার দুই ভায়ের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও আদায় এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে থানায় এবার মামলা করলেন বাজারের ইজারাদার মীর মোশাররফ হোসেন বাবু।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন, মুল্লুকের ভাই রাজিবুল ইসলাম ওরফে রিপন চৌধুরী এবং রকিবুল ইসলাম ওরফে সঞ্জয় চৌধুরী। আসামি সঞ্জয় চৌধুরী মামলার বাদী বাবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিছুদিন আগেও দিনের বড় সময় দুইজনকে একসঙ্গে দেখা যেত।
বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালি থানায় দেওয়া এজাহারে শহরের চুড়িপট্টি এলাকার মৃত কামরে আলমের ছেলে মীর মোশাররফ হোসেন বাবু উল্লেখ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বড়বাজারের পূর্ব ও পশ্চিম অংশ ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু চাল ব্যবসায়ী মুল্লুক চাঁদ ব্যবসা পরিচালনা করলেও কোনো খাজনা দেবেন না বলে জানান। একই সঙ্গে অন্য ব্যবসায়ীদের খাজনা না দিতে বলেন তিনি। আসামিরা বিভিন্ন সময়ে বড় বাজার থেকে খাজনা আদায় করতে নিষেধ করেন। গত ৫ মে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আসামিরা কাপুড়িয়াপট্টি এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘স্বর্ণলতা জুয়েলার্সের’ সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদেরকেও খাজনা দিতে নিষেধ করবেন বলে জানান।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা হুমকি দিয়ে বলেছেন, বড়বাজার থেকে খাজনা নিতে হলে তাদের প্রতিমাসে এক লাখ টাকা করে দিতে হবে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামি রিপন চৌধুরী তার পকেট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা কেড়ে নেন। হত্যার হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করতে হবে।
মীর মোশাররফ হোসেন বাবু আরো অভিযোগ করছেন, রিপন চৌধুরী পাঁচটি মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে তাকে টাকা বিকাশ করতে বলেন। তিনি পরে ফোন রিসিভ না করায় এসএমএস পাঠান। সেখানে লেখা হয় ‘বিকাশ পাঠান, মুখের ভিতর কথা বলতে কি হয়, বøাক লিষ্ট করেন।’ এই ঘটনার পর তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত।
আসামিরা ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ এবং একাধিক মামলার আসামি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক, লোন অফিসপাড়ার মৃত অ্যাডভোকেট ফারাজী শাহাদৎ হোসেনের ছেলে ফারাজী আশিকুল ইসলাম বাঁধনসহ চারজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। অন্যরা হলেন, একই মহল্লার ফজলুল করিমের ছেলে মাকসুদুল করিম বেলাল, মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ এবং পশ্চিম নাথপাড়ার হরিপদ অধিকারীর ছেলে সুবাস অধিকারী।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ বলেন, মামলাটি শতভাগ মিথ্যা, বাটোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যশোরের মানুষ ইতিমধ্যে জেনেছেন তার সঙ্গে মীর মোশারফর হোসেন বাবুর কী বিরোধ। বড় বাজারের ইজারা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে এবং তার পরিবারের সকলকে শায়েস্তা করতে এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘রিপন চৌধুরীর সাথে আমার অনেক দিন কথা বা সাক্ষাৎ হয় না। কয়েকটি রাজনৈতিক মামলায় মাথায় নিয়ে সে এখন পলাতক। আর সঞ্জয় চৌধুরী সম্পর্কে সবাই জানে। সে অত্যন্ত নরম স্বভাবের। কারো সাথে তার কোনো বিরোধ নেই। তার বিরুদ্ধে মামলা তো দূরে থাক, থানায় কোনো ডিজি পর্যন্ত নেই। শুধুমাত্র আমাকে নাজেহাল করতে এই মামলা দেওয়া হয়েছে।’
‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারেরও দাবি জানান মুল্লুক চাঁদ।
প্রসঙ্গত, বড়বাজারের টোল আদায় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দ্ব›দ্ব চলে আসছে ইজারাদার মীর মোশাররফ হোসেন বাবুর সঙ্গে ব্যবসায়ী নেতা মুল্লুক চাঁদের। ইতিমধ্যে মুল্লুক চাঁদের চুড়িপট্টির বাড়িতে কয়েক দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি মিছিলও হয়েছে।

আরও পড়ুন