ওএমএসে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট: 06:09:31 01/02/2019



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে ওএমএস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ কার্যক্রম শৃঙ্খলা হারিয়েছে। এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শহরের নয়টি ওয়ার্ডে একজন করে ওএমএস ডিলার রয়েছেন। তাদের মাধ্যমেই নিম্নবিত্তদের মধ্যে চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রি করা হয়। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে কোনো চাল বরাদ্দ দেওয়া না হলেও আট বছরে চাল-আটা ঠিকমতো বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে কর্মরত কয়েকজন জানান, কিছু নিয়ম-কানুন মেনে ওএমএসের মাধ্যমে ডিলাররা চাল ও আটা বিক্রি করেন। চালের বরাদ্দ পেলে ডিলারদের সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে এবং আটা সরকার-নির্ধারিত মিল থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্রে সেগুলো আনা হয়। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রত্যেক দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ওএমএসের ব্যানার টানিয়ে নিম্নবিত্তদের মধ্যে চাল আটা বিক্রি করার নিয়ম। বিক্রি করার সময় মজুদের হিসেব রাখার জন্য মাস্টার রোল তৈরি করতে হয়। কার কাছে কতটুকু পরিমাণ চাল-আটা দেওয়া হলো, তা মাস্টার রোলের মাধ্যমে দেখতে নয়টি ওয়ার্ডে ডিলারদের জন্য একজন সংযুক্ত কর্মকর্তা থাকেন। যতদিন ওএমএস চলবে ততদিন ওই সংযুক্ত কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি দেখভাল করার কথা।
কিন্তু ২০০৯ সালে ওএমএস কার্যক্রম চালু হওয়ার সময় এ নিয়মকানুনগুলো মানা হলেও ডিলাররা এখন তা পুরোপুরি মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ডিলারদের অনুকূলে বরাদ্দের চাল-আটা যৎসামান্য বিক্রয় কেন্দ্রে এনে বাকিটা খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। বিক্রয় কেন্দ্রে ব্যানার টানানো হচ্ছে না। সেকারণে বোঝার উপায় নেই যে, ওএমএসের কার্যক্রম চলছে কি-না। প্রতিদিন সকাল নয়টার পরপরই চাল-আটা নেই বলে সুবিধাভোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে ওএমএসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা। সেই সঙ্গে লাভবান হচ্ছেন ডিলাররা।
নির্মোহ তদন্ত করলে ওএমএস সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চুয়াডাঙ্গা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন।
তারা জানান, বর্তমানে ওএমএসে চাল দেওয়া বন্ধ থাকলেও আটা দেওয়া হচ্ছে। বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ওএমএসের আটা প্রতি কেজি ১৭ টাকা। সেকারণে ওএমএসের আটা অবৈধভাবে স্থানীয় বাজারে দশ টাকা লাভে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য অধিদপ্তর বলছে, ২০১১-২০১২ অর্থবছরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় এক হাজার ৭১২ দশমিক ৮২০ মেট্রিক টন চাল ও এক হাজার ৮৮০ দশমিক ২৭৭ টন গম, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে তিন হাজার ১৯৫ টন, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৮৫০ দশমিক ৯১০ টন এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে চার হাজার ১৯৯ দশমিক ৭৯০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। চালের মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল দশ হাজার ৯৫৮ দশমিক ৫২ টন। ২০১১-২০১২ সালে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির আওতায় নিরন্ন মানুষের জন্য প্রতি বছর মার্চ-এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের প্রথম থেকে প্রতি মাসে কার্ডধারীদের কাছে দশ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হয়। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩২টি ইউনিয়নে ৬৪ জন ডিলারের মাধ্যমে ৪২ হাজার ১৪ কার্ডধারী পুরুষ-নারী ও ২০১৬-২০১৮ অর্থবছরে ৩৮টি ইউনিয়নে ৭৬ ডিলারের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৮৫৬ কার্ডধারী পুরুষ-নারীর কাছে চাল বিক্রি করা হয়।
জেলার জীবননগর উপজেলার কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার শিপলু বলেন, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সেকারণে রাজনৈতিক প্ররোচনায় যেন কোনোভাবে এ কর্মসূচিতে ছেদ না পড়ে সে দিকে আমরা সচেতন রয়েছি।’
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাঙবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাওসার আহমেদ বাবলু বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে দশ টাকা কেজি দরে চাল পেয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষ যথেষ্ট খুশি। বছরে পাঁচ মাস ১৫০ কেজি চাল পেয়ে নিরন্ন মানুষ বেশ উপকার পাচ্ছেন।
ওএমএসের অনিয়ম আর দুর্নীতি প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল খালেক বলেন, নয়জন ডিলারকে অফিসে ডেকে অসঙ্গতিগুলো জানানো হবে। তারপর সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন