কপোতাক্ষের ভাঙনে বিশাল এলাকা বিলীন

আপডেট: 05:23:45 16/09/2018



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদের অব্যাহত ভাঙনে কয়েকটি গ্রামের বিশাল অংশ বিলীন হয়েছে। ভাঙনরোধসহ নদের পূর্ব স্থানে খননের দাবিতে মন্ত্রণালয়ে গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলার  হরিঢালী ও  কপিলমুণি ইউনিয়নের দরগামহল, রামনাথপুর, হাবিবনগর, ভেদামারী এবং আগড়ঘাটা বাজারের সিংহভাগ কপোতাক্ষের নদের অব্যাহত ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদের দূরবর্তী হাবিবনগর সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল্লাহর পাকা বসতবাড়ির বিশাল অংশ নদের গর্ভে চলে গেছে। বিলীন হয়েছে শত শত  বসতি, স্কুল, ঐতিহাসিক দরগামহল জামে মসজিদ, পীর মিয়াউদ্দীনের মাজার, স্কুল কবরস্থান। শত শত পরিবার ভিটে ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ৩৬ হাজার বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। ১৯৮০’র দশকে এ ভাঙন দেখা দেয়। যা আজও অব্যাহত রয়েছে। কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে প্রধান সড়কের স্থান। আবারো দেখা দিয়েছে সড়ক পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
খুলনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো নুরুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সাবেক) ফকরুল হাসান ও উপজেলা সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এলাকায় এলে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ক্ষয়ক্ষতি এক নজরে দেখানোর জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। অনেকেই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউই আজ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেননি বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।
এদিকে, পূর্বপাড়ে নদ ভাঙলেও জমি জেগে উঠেছে পশ্চিম পাড়ে। যার নাম হয়েছে পার রামনাথপুর। জেগে উঠা সম্পত্তিতে প্রভাবশালীরা গড়েছে বসতবাড়ি, কেউ বা করছে চিংড়ি ঘের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সাবেক এস এ খতিয়ানের আগের স্থানেই নদী খনন ও ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
কপিলমুণি ইউপি চেয়ারম্যান মো. কওছার আলী জোয়ার্দার বলেন, দ্রুত ভাঙনরোধের ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন