কবিরাজ মেরে ফেললো গৃহবধূকে, স্বামী মুমূর্ষু

আপডেট: 01:47:30 08/10/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় অজ্ঞাত পরিচয়ের কথিত এক কবিরাজের দেওয়া চেতনানাশক খেয়ে দিলরুবা বেগম (৬০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আর তার স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানকে (৭০) অজ্ঞান অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই দম্পতি উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের আন্দারকোটা গ্রামের বাসিন্দা।
তাদের একমাত্র ছেলে মাসুদ রানা মালয়েশিয়া প্রবাসী এবং এক মেয়ে লিপি আমেরিকার নাগরিক। স্বামী-স্ত্রীও দীর্ঘদিন আমেরিকায় ছিলেন। পরে গ্রামের বাড়িতে এসে বসবাস করছিলেন।
দিলরুবার দেবরের ছেলে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রোববার (আজ) সকাল সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ কিছুটা চেচামেচি শুনে ওই বাড়ির পাশে সবজিক্ষেতে কাজ করা শ্রমিকদের সাথে এসে দেখি চাচা-চাচি ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছে। তারা বার বার ওয়াশরুমে যাচ্ছিলেন এবং তাদের গায়ে কিছুটা ময়লাও লেগে ছিল। এঅবস্থায় দ্রুত দুইজনকেই চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের যশোরে রেফার করা হয়। যশোর জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার পথে চাচির মৃত্যু হয়। লাশ বিকেল তিনটার দিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। ডাক্তার বলেছেন চাচার অবস্থাও খুব খারাপ। তিনি যে কোনো সময়ে মারা যেতে পারেন।’
প্রতিবেশী সেলিনা বেগম জানান, ‘ধর্ম আত্মীয়’ কবিরাজকে স্থানীয়রা একমুঠো টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখলেও ধরতে পারেনি।
তিনি জানান, মৃতের মেয়ে লিপি আমেরিকা থাকেন। সেখান থেকে গতকাল তিনি কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন। সকালে মোস্তাফিজুর রহমান চৌগাছার একটি ব্যাংক থেকে সেই টাকা তুলে এনেছিলেন।
দম্পতির পুত্রবধূ নার্গিস বেগম বলেন, ‘আমি সকাল সাতটার সময় ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চৌগাছায় স্কুলে চলে যাই। এর চার ঘণ্টা পর বাড়িতে এসে শুনি শ্বশুর-শাশুড়িকে চৌগাছা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যশোর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে।’
কথিত ধর্ম আত্মীয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার দিকে কোথাও তার বাড়ি হবে। আমার শ্বশুর-শাশুড়ি তার সাথে মাঝে মধ্যে মোবাইলে কথা বলতেন। গত রাতেও আমার শ্বশুর তার সাথে কথা বলেছেন। সেসময় মেয়ে টাকা পাঠিয়েছে একথাও জানিয়েছিলেন কবিরাজকে।’
তবে মেয়ে কত টাকা পাঠিয়েছিলেন, তা জানেন না বলে জানান পুত্রবধূ নার্গিস।
চৌগাছা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত আব্দুল হাই জানান, ওই দম্পতিকে বেলা সাড়ে এগারটার দিকে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্বরূপদাহ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, ‘আপনার কাছ থেকেই ঘটনা শুনছি। এখনই খবর নিয়ে দেখছি।’

আত্মহত্যা
এদিকে, শনিবার গভীর রাতে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের পলুয়া গ্রামে আল-আমীন নামে এক স্কুলছাত্র ঘাষমারা ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে গ্রামের নজির উদ্দিনের ছেলে এবং পলুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
দশপাকিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে মায়ের সঙ্গে ছেলেটির ঝগড়া হয়েছিল। পরে মা রান্না-বান্না করে পাশের গ্রামে নিজের বাবার বাড়িতে যান। রাত এগারটার দিকে বাবা নজির উদ্দিন ছেলের সাড়া-শব্দ না পেয়ে তার গায়ে হাত দেন। দেখেন, তার শরীর শীতল হয়ে গেছে। পরে গ্রাম্য ডাক্তার জিয়াকে ডেকে চিকিৎসা দেওয়াও আগেই তার মৃত্যু হয়।
এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান এসআই শফিকুল।

আরও পড়ুন