কলারোয়ার দুই চাকরিজীবীর নামে খাস জমি

আপডেট: 01:10:22 13/01/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি বাজারে খাস জমিতে অব্যবসায়ীদের নামে দোকানঘর বন্দোবস্ত দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই অব্যবসায়ীরা তাদের নামে খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে টাকার বিনিময়ে অন্যত্রে হস্তান্তর করেছেন বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ওই বাজারের স্থায়ী ব্যবসায়ী ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের মৃত আছির উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে রিজাউল ইসলাম বাদী হয়ে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ওই বাজারের খাস জমিতে দোকানঘর বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। বন্দোবস্ত পাওয়া উপজেলার ক্ষেত্রপাড়া গ্রামের ভৈরব সাহার ছেলে খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী সেকশন অফিসার পবিত্র সাহা ও মৃত শিবপদ সাহার মেজ ছেলে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ সাহা ভুয়া তথ্য দিয়ে ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে দুটি দোকানঘর করতে খাস জমি তাদের নামে বন্দোবস্ত নিয়েছেন। তারা কখনো ওই বাজারে ব্যবসা করতেন না বা এখনো করেন না। তারা চাকরিজীবী এবং সম্পর্কে চাচা-ভাইপো। দুইজনই খুলনায় বসবাস করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এর আগে পবিত্র সাহার বাবা ভৈরব সাহা একই বাজারে একটি দোকানঘর বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। সেখানে কখনো তিনি ব্যবসা করেননি; দোকান ভাড়া দিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে ওই দোকানঘরটি উপজেলার ওফাপুর গ্রামের মৃত করিম বকসের ছেলে জামাল দফাদারের কাছে এককালীন ছয় টাকা নিয়ে হস্তান্তর করেন; যা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভবিষ্যাতে তারা বাবার মতো মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বন্দোবস্তকৃত দোকান অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন। এমনকি পবিত্র সাহা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সরকারি অনুমতি না নিয়েই আরো দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে ওই দুটি দোকানঘর দ্বিতলবিশিষ্ট। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে মোটা টাকা ঘুষ দিয়ে নিজ নামে বন্দোবস্ত ও অবৈধভাবে দুটি দোকান নির্মাণ করেন তারা।
অভিযোগে আরো বলা হয়, বর্তমানে ওই বাজারে সরকারের এক কোটি ছাপান্ন লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। যার মধ্যে ছয়টি চাঁদনি রয়েছে। চাঁদনির পাশে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও পুলিশ ক্যাম্পে যাতায়াতের একমাত্র গলিপথের ওপর লোহার সিঁড়ি তৈরি করে দখল করা ওই দুটি দোকানের দ্বিতল ভবনে ওঠা-নামা করা হচ্ছে। তাই অব্যবসায়ী পবিত্র সাহা ও রামকৃষ্ণ সাহার নামে বরাদ্দ করা দোকানঘর বাতিল ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করা হয় আবেদনে।
এ ব্যাপারে খুলনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী সেকশন অফিসার পবিত্র সাহা দাবি করেন, ছাত্রাবস্থায় তারা ওই বাজারে পাটের ব্যবসা করতেন। অবৈধভাবে কোনো দোকানঘর নির্মান বা বন্দোবস্ত নেননি। যা করেছেন বৈধভাবেই করেছেন। বরং অভিযোগকারী রিজাউল চারটি দোকানঘর অবৈধভাবে নির্মাণ করেছেন।

আরও পড়ুন