কলারোয়ায় ইউএনও পরিচয়ে প্রতারণা

আপডেট: 08:33:45 24/10/2018



img

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ল্যাপটপ দেওয়ার নাম করে বিকাশে টাকা দাবি করা হচ্ছে। বুধবার ও মঙ্গলবার কিছু অপরিচিত নম্বর থেকে এই কাজ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়টি ভুয়া বলে অবহিত করে সবাইকে সচেতন ও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
একাধিক শিক্ষক জাজান, কখনো কলারোয়ার ইউএনও’র মোবাইল নম্বর, আবার কখনো কোনো সচিবের নাম ব্যবহার করে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা বলে বিকাশে টাকা চাওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কলারোয়া ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে ও কণ্ঠস্বর নকল করে টাকার বিনিময়ে ল্যাপটপ দেওয়ার জন্য প্রতারকরা এমন কাজ করছে।
উপজেলার সরসকাটি হাইস্কুল, কাজীরহাট গার্লস হাইস্কুল, সাতপোতা রহিমা বালিকা বিদ্যালয়, ছলিমপুর হাইস্কুল, মুরারীকাটি হাইস্কুল, বদরুন্নেছা বালিকা বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফোন করে অনুরূপভাবে টাকা বিকাশ করার কথা বলা হয়েছে।
সাতপোতা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমানের কাছে ০১৭২২-৬০৫৯৭৮ নম্বর থেকে ফোন করে টাকা বিকাশ করার কথা বলা হয়েছে। ইউএনও’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘৫৮ হাজার টাকার ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এজন্য আট হাজার টাকা বিকাশে দিতে হবে।’
তখন প্রধান শিক্ষক পাঁচ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘টাকাটা বিকাশ করে বিকেলে ইউএনওর বাসায় দেখা করবেন।’
সন্দেহ হলে প্রধান শিক্ষক খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হন, প্রতারক চক্র টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাজীর হাট গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সামছুল হকের কাছে প্রথমে ০১৭২২-৬০৫৯৭৮ নম্বর থেকে নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে তার নাম্বার জানা আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক নেতিবাচক জবাব দেন। তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘শিক্ষা অফিসার আমার পরিচয় দিয়ে দেবেন।’
দ্বিতীয়বার ০১৭১৭-২৩৯৯৮৯ নম্বর থেকে শিক্ষা অফিসারের পরিচয় দিয়ে (যদিও সেটা শিক্ষা অফিসারের কণ্ঠস্বর নয়) ফোন দিয়ে ইউএনও’র কথা বলা হয়। তৃতীয়বার ০১৭০৯-৩১৯৭৩৯ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়, ‘আপনি সরকারি ল্যাপটপ পেয়েছেন কিনা।’
প্রধান শিক্ষক তখন বলেন, ‘স্কুলে পেয়েছি।’
তখন অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘প্রধান শিক্ষকের জন্য ব্যক্তিগত ল্যাপটপ দেওয়া হবে। এজন্য বিকাশে টাকা দেন।’
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সামছুল হক সহকর্মী ও ঊর্দ্ধতনদের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সম্পর্কে ভুয়া ও প্রতারণা বলে নিশ্চিত হন।
লাঙ্গলঝাড়া কেএল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের কাছেও ০১৯৬৪-১১৫২২৬ নম্বর থেকে ফোন করে টাকা বিকাশ করার কথা বলা হয়েছে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে কলারোয়া ইউএনও’র কার্যালয়ে গিয়ে ইউএনও’র সরকারি মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসের সুপারভাইজার ইউএনও’র মোবাইলটি আলমারিতে বন্ধ অবস্থায় দেখান।
তিনি বলেন, ‘স্যারের নম্বরটি সম্ভবত ক্লোন করা হয়েছে।’
ইউএনও অফিসের বেঞ্চ সহকারী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এ বিষয়ে কলারোয়া থানায় জিডি করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হামিদ বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। প্রতারণার ঘটনাটি সত্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুয়া ও প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সজাগ থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, অনেক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে অনুরূপভাবে ল্যাপটপ দেওয়ার নাম করে বিকাশে টাকা চাওয়া হলেও কেউ টাকা দিয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন