কলারোয়ায় ঈদমুখে জমে উঠেছে বাজার

আপডেট: 08:08:41 13/06/2018



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : ঈদমুখে জমে উঠেছে কলারোয়ার বাজার। শহরসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের হাট-বাজারে বেচাকেনার ধুম পড়েছে।
নানা বয়সের মানুষ নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনীসহ বাহারি পণ্য কিনতে ছুটছেন এক দোকান থেকে দোকানে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে প্রিয়জনকে খুশি করতে মানুষের চেষ্টার যেন ত্রুটি নেই। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মার্কেটগুলো ক্রেতার ভিড়ে গমগম করছে।
উপজেলা সদরের সবচেয়ে ব্যস্ত দেখা গেছে রাসেল ফার্মেসী মার্কেট, সাবু মার্কেট, চেয়ারম্যান মার্কেট, মালেকা টাওয়ার, আনিছ মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি। এসব মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে দোকানগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য বাহারি রঙের বৈচিত্র্যময় পোশাকে দোকানগুলো সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকের বেশির ভাগই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ তরুণী। গরমে সূতি কাপড় দেহ ও মনে স্বস্তি দেয়। এ কারণে সূতি কাপড়ের চাহিদা অন্য কাপড়ের চেয়ে তুলনামূলক বেশি বলে জানান দোকানিরা।
ক্রেতাদের ভাষ্য, গত ঈদের চেয়ে এবার পোশাকের দাম বেশি।
উপজেলার কামারালী গ্রামের নাজনীন খাতুন বলেন, ‘মার্কেটগুলোতে ইচ্ছেমতো দাম নেওয়া হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে মুশকিলে পড়তে হচ্ছে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের।’
স্টুডেন্ট বস্ত্রালয়ের মালিক মফিজুল ইসলাম বলেন, দোকানভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ বেশি। পাইকারি মার্কেটে দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পোশাকের দাম একটু বেশি ধরা হয়েছে।’
ঈদের বাজারে রমণীদের পছন্দের বাহারি ডিজাইনের শাড়ির বিপুল সমাহার ঘটেছে শহরের দোকানগুলোতে। গরমের কারণে তরুণীদের মধ্যে জর্জেটের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ছেলেদের ফ্যাশনেবল শার্ট-প্যান্ট ও পানজাবি বেশি বিক্রি হচ্ছে। জুতা ও প্রসাধনীর দোকানে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। বুটিকের দোকানগুলো ক্রেতা সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে। এসব দোকানে ছেলেদের পানজাবি, ফতুয়া ও মেয়েদের ওয়ানপিচ, টুপিচ, থ্রিপিচ বেশি বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, পছন্দের পোশাকের সঙ্গে মানানসই প্রসাধন সামগ্রীও কিনছেন অনেকেই।
দোকানিরা জানান, সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা চললেও তীব্র গরমের হাত থেকে বাঁচতে বেশিরভাগ ক্রেতা বেরুচ্ছেন ভিড় সন্ধ্যার পর। ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষদের কারণে শহরে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। এতে করে শহরবাসী চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লবকুমার নাথ জানান, ঈদ বাজারে নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ কাজ করছে। মার্কেটগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশের নিয়মিত টহল রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আশাবাদী।

আরও পড়ুন