কলারোয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: 08:23:33 19/07/2016



img

কে এম আনিছুর রহমান, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : কলারোয়া উপজেলার কুমারনল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরিন সুলতানার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের পক্ষে আব্দুল লতিফ ও আমিনুর রহমান নামে দুই ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে কুমারনল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন শিরিন সুলতানা। শুরু থেকেই তিনি স্বজনপ্রীতি, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তার মধ্যে সরকার প্রদত্ত উপবৃত্তির টাকা প্রদানের সময় প্রত্যেক কোটায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপ্রতি ৫০ টাকা করে ঘুষ নেন তিনি। শাহিন হোসেনের মেয়ে জুঁই নামে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, যে সারা বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকে, তাকে হাজির দেখিয়ে একই শ্রেণিতে দুই বছর ধরে টাকা প্রদান করছেন। অপরদিকে মুজিবুর রহমানের মেয়ে সুইটি নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (রোল-১) চতুর্থ শ্রেণি থেকে উপবৃত্তি বন্ধ করে দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বজলুর রহমানের মেয়ে সিনথিয়া জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালে জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত তাকে উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হয়নি।
বলা হয়, ২০১৬ সালের উপবৃত্তির টাকা প্রদানের সময় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র টুটুলকে এক হাজার ২০০ টাকার বদলে ৫০০ টাকা, দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ও সাবরিনাকে (দুই বোন) দুই হাজার ৪০০ টাকার বদলে ৪০০ টাকা দেওয়া হয়। একইভাবে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাঈদকে ৫০০, পঞ্চম শ্রেণির শারমিনকে এক হাজার টাকাসহ ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের অনুদানকৃত খেলাধুলা বাবদ দুই হাজার টাকা, শ্রেণিকক্ষ মেরামত বাবদ পাঁচ হাজার টাকা এবং স্লিপের ৪০ হাজার টাকা স্কুলের কাজে খরচ না করে আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। স্কুলের ফার্নিচার, মোটর, নলকূপ, টিন, জানালা তিনি নিজ বাড়িতে ব্যবহার করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। অনুপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিত দেখিয়ে সরকার প্রদত্ত বিস্কুট বাসায় নিয়ে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যা এলাকাবাসী দেখেছেন।
এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাতা সদস্য করার ক্ষেত্রে অনিয়ম, পছন্দমতো শিক্ষক প্রতিনিধি নিয়োগ, শিক্ষক অনুদানের টাকা আত্মসাৎ, সহকারী শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক ট্রেনিং থেকে বঞ্চিত করা, অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ প্রভৃতি অভিযোগ এনে তাকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।
তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শিরীন সুলতানা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্টো অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর হোসেন জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তমকুমার রায় জানান, অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন