কামরুন নাহার কুহেলীর একগুচ্ছ কবিতা

আপডেট: 07:09:56 01/07/2017



img

এক্কাদোক্কা

থৈ থৈ নোনাজলে বেলা-অবেলায়
যখন কাব্য রচেছি,
নিয়তির পূর্ণ তিথি মেনে;
ঘরহীন ঘরে
দীর্ঘ কালোরাত কাটিয়েছি সম্পর্কের আবাদ করে,
হৃদয়ভাঙা ক্লান্তিতে নুয়ে পড়েছি কুলবধূ হয়ে;
তখন তোমার সমবেদনা কতটা সতেজতায়
উষ্ণতা পেয়েছিল? এখন নিয়মভাঙা আষাঢ়ে মেঘ
যখন বিষন্ন জানালার পর্দা সরিয়ে অঝর বর্ষণে
রঙ ছড়াল তখন শবযাত্রারও অধীক শোক যেন
অবিরাম এক্কাদোক্কা খেলতে লাগল তোমায় ঘিরে!




রমণ রাত্রির ছায়া

কচুপাতার জলে যে নাম লিখেছিলে
তার ব্যবচ্ছেদে করুন ক্ষরিত জলের
শিল্পকলায় ঘর-দোর সাজিয়ে
যে কুয়াশাভেদের অপেক্ষায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে
তা তোমার নিঃসঙ্গতাকে খুঁটে খুঁটে জমাবে কেবল!
বয়সী সময় মুখস্থ নিশ্বাসে এঁকে যাবে
ব্যর্থ ক্লান্ত শ্রান্ত রমণ রাত্রির ছায়া!




ইচ্ছেফুল

নির্জনতায় বসে হল্লা করি-
আঁধারের গায়ে আলোকের নৃত্য দেখি
ঝুমঝুম শৈশবভেজা বৃষ্টিতে
ধুলাঘর বেঁধে শুনি
বর্ষবরণ গীত!

তুমুল দহনে কেউ যদি
রাত্রির ছায়াতে ভিজে
সমতলের জ্যোৎস্না-জলে
জুম চাষে তাতে কার কী?




মানচিত্র

স্বপ্নপোড়া ছাই মেখে, মাংসপোড়া গন্ধে
বিচলিত চারপাশ

ভাবনাগুলো সরীসৃপের মতো হাঁটে
বাতাসের টানে,
কখনও কখনও ওড়ে;
কখনও শীতলঘুমে ঘাপটি মেরে থাকে

স্বপ্ন বুনে যে মানচিত্র আঁকার কথা ছিল
প্রেমের অভাবে তা আর আঁকা হয় না!




দ্বিখণ্ডিত পথ

কতবার ভেবেছি হাঁটব তোমার বিপরীত পথে
বাড়াবো দূরত্ব সম্পর্ক থেকে সমর্পণের।
সময়-অসময়ের ক্ষত আর ক্ষতির হিসেব
পড়ে থাক অমিলের ঘরে, উহ্য থাক
প্রেম-অপ্রেম, বিরহ-মিলনে অশ্রুজলের
প্রকাশ-অপ্রকাশের খেলা। তবু কী এক
মোহমায়া টেনে নেয় তোমার পথে
দ্বিখণ্ডিত পথ স্বপ্নমূর্ছনায় মিশে এক পথে!




বিজয় তিলক

আদিম উচ্ছ্বাস ফিরে ফিরে আসে
পাহাড়ের গায়ে- সবুজে

আমি বাতাসের ডাকে, মেঘের আবরণে
আকাঙ্ক্ষার বার্তা পাঠাই ...

আমার শ্যাওলাধরা প্রেম
বাজপাখির চঞ্চুতে ক্ষতাক্ত!

তোমার অমিয় বচনে বার বার হেরে যাই!
মদির সুবাসে কৃষ্ণের বাঁশি বাজাও-
বাঁশির সুধায় তোমার প্রজ্বলিত অগ্নিশিখায়
পতিত যেন এক পতঙ্গ আমি
তোমার উচ্ছ্বসিত চোখে বিজয় তিলক দেখি!


[কামরুন নাহার কুহেলী : জন্ম দিনাজপুর মিশন হসপিটালে। মা আনোয়ারা সরকার, বাবা মো. খবির উদ্দিন সরকার। সরকারি আযিযুল হক কলেজ থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। আবাস বগুড়ায়। পেশায় শিক্ষক।]