কামান্না শহীদ দিবস রোববার

আপডেট: 06:56:22 25/11/2017



img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম কামান্নায় পাক-বাহিনীর সাথে যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন মাগুরার ২৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা ওই ২৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে সে সময় কামান্না গ্রামে একাধিক গণকবরে সমাহিত করা হয়।
কামান্না শহীদদের স্মরণে তাদের নিজ এলাকা মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামে নির্মিত হয়েছে শহীদ মিনার। যেখানে ২৬ নভেম্বর কামান্না শহীদদের স্মরণে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জেলার মুক্তিযোদ্ধারা কামান্না থেকে ২৭ শহীদের কবর নিজ এলাকা মাগুরা সদরের হাজীপুর গ্রামে স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি তারা কামান্না শহীদ দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবিও করছেন।
কামান্না যুদ্ধে বেঁচে যাওয়া হাজীপুর বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার আবু বক্কর জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে হাজীপুর বাহিনীর একদল মুক্তিযোদ্ধা কামান্না গ্রামে রাতযাপনের জন্য মাধব কুণ্ডু নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পরিত্যক্ত একটি টিনের ঘরে অবস্থান নেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানের এ খবর স্থানীয় রাজাকাররা ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও মাগুরায় পাক বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়। খবর পেয়ে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সহযোগিতায় শৈলকুপা ও মাগুরা থেকে আসা পাক সেনারা ২৬ নভেম্বর ভোররাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুসজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের মুখে ঘটনাস্থলেই ২৭ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পাক সেনারা চলে গেলে এলাকাবাসী কামান্না স্কুল মাঠের পাশে একাধিক গণকবরে ২৭ বীর শহীদকে সমাহিত করেন।
মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর জানান, শহীদ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, কামান্না থেকে ২৮ শহীদের কবর তাদের নিজ এলাকা মাগুরা সদরের হাজীপুর গ্রামে স্থানান্তরের। পাশাপাশি এদিনটি কামান্না শহীদ দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে পলনের।
এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলী জানান, জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম শৈলকুপার কামান্না থেকে ২৭ শহীদের কবর মাগুরায় আনার জন্য ও এদিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।