কালীগঞ্জের দুই যুবককে হিজড়ায় রূপান্তর!

আপডেট: 09:57:22 22/06/2018



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুই যুবককে জোর করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষাঙ্গ কর্তন করে হিজড়ায় রুপান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের পুরুষাঙ্গ কর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডাক্তার।
ভুক্তভোগীরা হলেন, কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকার কেসমত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (২২) ও একই উপজেলার ঘোপপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে কাজল হোসেন (২৩)। আর এই গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন কালীগঞ্জের হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রতœা। এর আগেও তিনজনকে একইভাবে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
তবে হিজড়া সরদার রতœার দাবি, হিজড়াদের অন্য একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে এরকম ‘ভুয়া সংবাদ’ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈদের এক সপ্তাহ আগে যশোরের একটি বাড়িতে নিয়ে জোর করে এ অস্ত্রোপচার করা হলেও বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তিভোগীরা হিজড়া সরদার রত্নার বিরুদ্ধে থানায় গিয়েও মামলা করতে পারেননি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলের আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। কালীগঞ্জের হিজড়া সরদার মনিরা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য চাপ দিতো। ঈদের এক সপ্তাহ আগে রত্না আমার ছেলেকে ফুঁসলিয়ে যশোর নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে নিয়ে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। এরপর সেই বাড়িতে তাকে আটকে রেখে চিকিৎসা করাতে থাকে। পরে আমরা সংবাদ পেয়ে হিজড়াদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
তিনি অভিযোগ করেন, তারা হিজড়া সরদারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। তবে পুলিশের দাবি, কেউ এ ধরনের অভিযোগ দেয়নি।
শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ও কাজল হিজড়াদের সাথে চলাচল করতাম। কিন্তু ঈদের আগে আমাদের কিছু না জানিয়েছে হিজড়া সরদার একটি মাইক্রোবাসযোগে যশোরের কোনো একটা বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে খাবারের সাথে কিছু মিশিয়ে অজ্ঞান করে। এরপর আমরা আর কিছুই জানি না।’
‘হিজড়া সরদার রত্না আমাদের পুরুষাঙ্গ কর্তনের পর মাগুরায় নিয়ে যায়। সেখানে নাক ও কান ছিদ্র করে, হাতে চুড়ি পরিয়ে দেয়।’
অস্ত্রোপচারের শিকার হওয়া আরেক যুবক কাজলের ভাষ্য, ‘আমাদের না বলে কৌশলে অজ্ঞান করে এই অপারেশন করা হয়েছে। আমি হিজড়া সরদার রত্নার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সুলতান আহমেদ বলেন, এদের কমপক্ষে ১০-১২ দিন আগে অপারেশন করা হয়েছে। কারো অমতে এ ধরনের অপারেশন করা অপরাধ।
ওই দুই ভুক্তভোগীর অবস্থাই খারাপ। এরমধ্যে শরিফুল ইসলামকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে জানান ডা. সুলতান।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ তার কাছে কেউ দেয়নি। অভিযোগ দিলে দরকারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে হিজড়া সরদার মনিরা ওরফে রত্না বলছেন, আমি এসব কাজে তিনি জড়িত নন। ‘আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে হিজড়াদের অন্য একটি গ্রুপ আমার বিরুদ্ধে এমন সংবাদ ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে।’

আরও পড়ুন