কালীগঞ্জে হিন্দু পরিবারের নিখোঁজ নিয়ে রহস্য

আপডেট: 05:25:18 10/05/2018



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জের পল্লীতে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের চার সদ্যসের একটি পরিবার নিখোঁজ হয়েছে। গত ৪ মে শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের আর পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ হওয়া এই পরিবারপ্রধানের নাম সুকুমার বিশ্বাস; যিনি রাজবংশী সম্প্রদায়ভুক্ত।
তাদের পরিকল্পিতভাবে কেউ তুলে নিয়ে গেছে, না নিজে থেকে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন, তা কেউ বলতে পারছেন না। পরিবারটির বসবাস ছিল জামাল ইউনিয়নের পার-খালকুলা গ্রামে।
নিখোঁজ হওয়া পরিবারটির অন্য সদস্যরা হলেন, সুকুমার বিশ্বাসের স্ত্রী রেনুরানি বিশ্বাস, বিধবা পুত্রবধূ রিপারানি বিশ্বাস এবং দৌহিত্র সনদ বিশ্বাস। প্রায় তিন মাস আগে গৃহস্বামী সুকুমারের একমাত্র ছেলে স্বপনকুমার বিশ্বাস ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এ ঘটনার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি সংগঠন নিখোঁজ পরিবারকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে’ বা ‘হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’ দাবি করলেও প্রতিবেশীদের দাবি, তারা নিজ থেকে বাড়ি ছেড়েছে চলে গেছে।
পরিবারটি নিখোঁজের একদিন পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোদাচ্ছের হোসেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার পাঁচদিন পর ৯ মে বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ইস্যু করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সুকুমার বিশ্বাসের পানের বরজসহ আট বিঘা সম্পত্তি এলাকার কতিপয় ভূমিদস্যু নামমাত্র মূল্যে ক্রয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করার জন্য বিভিন্ন সময় তার ওপর মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। ফলে তাদের এই নিখোঁজের পেছনে স্থানীয় এসব ভূমিদস্যুর যোগসূত্র থাকতে পারে।’
তারা নিখোঁজ পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিজ বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করার দাবি করেন। না হলে গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে সুকুমারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঘর তালাবদ্ধ। গোয়ালে একটি গাভী অভুক্ত। আমিরুল জোয়ার্দার নামে এক প্রতিবেশী বাড়ির উঠানে গরুর ঘাস কাটছেন।
আমিরুল বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এসেছিলেন। তারা আমাকে বাড়ি ও সুকুমারের রেখে যাওয়া গরু এবং হাঁস-মুরগি দেখে রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন।’
আমিরুল জানান, কয়েকদিন আগে সুকুমার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে চলে যান। এর কয়েকদিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকুমারের স্ত্রী, পুত্রবধূ ও দৌহিত্র প্রতিবেশীর বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাদের আর পাওয়া যাচ্ছে না।
নিখোঁজ সুকুমারের জামাই অলোক কুমার বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি আমার শ্বশুর যশোরে এক বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। এরপর থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর বাড়ির অন্য সদস্যরা চলে যায়। তবে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার দুইদিন পর আমার সাথে একবার মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছিল। তখন আমাকে জানিয়েছিল, তারা দেশেই আছেন। তবে নিরাপত্তার জন্য বাড়ির বাইরে আছেন।’
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনীল ঘোষ বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন।’
কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনা জানার পর বিষয়টি গভির পর্যবেক্ষণে রেখেছি। পুলিশের বিশেষ একটি টিম এই বিষয়ে কাজ করছে। তাদের স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপ যদি নির্যাতন করে তাহলে পুলিশকে অবহিত করতে পারতো। কিন্তু তা না করেনি। তবে কেউ যদি নিশ্চিত করে অভিযোগ জানায়, তাহলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবো।’

আরও পড়ুন