কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী ও ‘জঙ্গি’দের বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ৭

আপডেট: 02:19:40 18/02/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : কাশ্মিরের পুলওয়ামাতে আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলার রেশ না কাটতেই সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্দেহভাজন জঙ্গিদের গুলিতে নতুন করে চার ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মেজরও আছেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে পিংলান এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর গুলি চালায় 'জঙ্গি'রা। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিহত হয়েছে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আশ্রয়দাতাও। সবমিলে এখন পর্যন্ত সাতজনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে উদ্ধৃত করে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এখনও এক জঙ্গির বন্দুকযুদ্ধ চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামাতে আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’র গাড়ি বহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে বহরের ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। প্রাণ হারায় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য। হামলার পর জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ ঘটনার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়,তাদের হয়ে পুলওয়ামারই বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার ওই হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কাশ্মির পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত রয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার নতুন করে নিরাপত্তা বাহিনী ও সন্দেহভাজন জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জঙ্গিদের উপস্থিতির খবরের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে পুলওয়ামার পিংলান এলাকা ঘিরে ফেলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে তল্লাশি চালানোর সময় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। এতে নিহত হয় পাঁচ সেনা সদস্য। পুলওয়ামায় সম্প্রতি আত্মঘাতী হামলা চালানো আদিল দারের সঙ্গে এ হামলাকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তারা যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল সে বাড়ির মালিক নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আদিলের বাবা গুলাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে জানায়, হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যু-পরবর্তী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পাথর ছোড়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে মার খেয়েছিল তার ছেলে। তারপরই সেনাবাহিনীর প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায় তার। ‘ আজ জওয়ানদের ঘরে যে যন্ত্রণা, আমার ঘরেও আমরা সেই একই যন্ত্রণা ভোগ করছি।’ বলেছেন আত্মঘাতী আদিলের বাবা। জি নিউজ তাকে এবং আদিলের মা ফাহমিদাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ২০১৬ সালে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল আদিল। সেসময় আচমকা সেনাবাহিনী আদিল এবং তার বন্ধুদের আটক করে অপমান এবং মারধর করে সেনাবাহিনীর উপর পাথর ছোড়ার অভিযোগে।
ছেলের মৃত্যু এবং কাশ্মিরের এই পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিকদের দায়ী করেছেন পুলওয়ামা হামলার ‘মূল হোতা’ আদিলের বাবা গুলাম হোসেন দার। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিকে তিনি বলেছেন, ‘‌ওদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। যুবকদের সন্ত্রাসবাদের দিকে ওনারাই ঠেলে দিচ্ছেন। আর সাধারম মানুষের ছেলেরা মরছে, তা জওয়ানদের পরিবারই হোক বা আমাদের।’‌ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আদিলের বাবা গুলাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে জানায়, হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যু-পরবর্তী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পাথর ছোড়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে মার খেয়েছিল আদিল আহমেদ দার। তারপরই সেনাবাহিনীর প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায় তার। ‘আজ জওয়ানদের ঘরে যে যন্ত্রণা, আমার ঘরেও আমরা সেই একই যন্ত্রণা ভোগ করছি।’ বলেছেন আত্মঘাতী আদিলের বাবা। জি নিউজ তাকে এবং আদিলের মা ফাহমিদাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ২০১৬ সালে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল আদিল। সেসময় আচমকা সেনাবাহিনী আদিল এবং তার বন্ধুদের আটক করে অপমান এবং মারধর করে সেনাবাহিনীর উপর পাথর ছোড়ার অভিযোগে।

আরও পড়ুন