কিশোরী ধর্ষণ, ইউএনও’র গাড়িচালক গ্রেফতার

আপডেট: 02:18:34 10/02/2019



img

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া বাক প্রতিবন্ধী এক কিশোরী শনিবার দুপুরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত আব্দুল গফ্ফার (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
উপজেলা সদরের চণ্ডিপুর গ্রামের মৃত গহর আলী গাইনের ছেলে আব্দুল গফ্ফার শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়িচালক। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসার কাছে একটি সরকারি কোয়ার্টারে একা থাকেন।
এঘটনায় ধর্ষিতার মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় মামলা করেছেন। ভিকটিম পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আজ তার ডাক্তারি পরীক্ষা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেন, তারা আব্দুল গফ্ফারের চণ্ডিপুর এলাকার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। শনিবার দুপুরে গফ্ফারের স্ত্রী তার মেয়েকে দিয়ে গফ্ফারের জন্য ভাত পাঠান। এসময় নির্জন কোয়ার্টারে আর কেউ না থাকার সুযোগে লম্পট গফ্ফার একা পেয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তাকে জানালে তারা পুলিশের শরণাপন্ন হন। গফ্ফারের বিরুদ্ধে মামলা না করে পারিবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা শুরু থেকে চাপ দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত ধর্ষক আব্দুল গফ্ফারের প্রথম স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য আমেনা বেগম জানান, তিনি নলতা শরিফে যাওয়ার কারণে শনিবার দুপুরে তাদের ভাড়াটিয়ার প্রতিবন্ধী মেয়েকে দিয়ে স্বামীর জন্য ভাত পাঠিয়েছিলেন। পরে আব্দুল গফ্ফার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে তিনি শুনেছেন।
এদিকে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিল হোসেন জানান, প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে রাত আটটার দিকে আব্দুল গফ্ফারকে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রোববার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একে একে চারটি বিয়ে করলেও আব্দুল গফ্ফার প্রায়ই অন্য নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতো। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের গাড়িচালক থাকা এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার এসব দুষ্কর্ম নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেন না।
প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডের মধ্যকার কৃষি জমিতে চাষাবাদ, উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছ চাষসহ শত শত ফলদ গাছ ভোগ দখল করার অভিযোগ রয়েছে গফফারের বিরুদ্ধে। এছাড়া এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি চাকরীজীবী হয়েও নিজ স্ত্রীদের নামে সরকারি জমি বন্দোবস্ত নেওয়া, প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও আছে।

আরও পড়ুন