কেমন আছেন ‘বীরনিবাসের’ বাসিন্দারা

আপডেট: 01:17:44 04/01/2017



img
img

শিমুল হাসান, মাগুরা : শ্রীপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামের বাসিন্দা বীরাঙ্গনা লাইলী বেগম। স্বামী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ৪৩ বছর ধরে বসবাস করেছেন খুপড়ি ঘরে। ভ্যানচালক স্বামী মনোয়ায় হোসেনের সামান্য আয়ে খেয়ে না দিন কেটেছে তার। দেশের জন্য সর্বস্ব হারানো এই নারী দীর্ঘ বছর ধরে বেড়িয়েছেন পথে-পথে।
অবশেষে ২০১৩ সালে ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে মিলেছে সরকারি স্বীকৃতি। গত দুই বছর ধরে দশ হাজার টাকা করে পচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। একই সঙ্গে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকার করে দিয়েছে পাকা বাড়ি (বীরনিবাস)। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সুখেই আছেন লাইলী বেগম।
সদর উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম ও শ্রীপুর উপজেলা সদরের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলাম। বিনিময়ে কিছুই পাইনি। স্বাধীন দেশে খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে। দিনমজুরি করে, রিকশা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তানের খাবার জোগাড় করেছি। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। পরিচয় দিতে পারিনি। এমন সময় গেছে অনেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে উপহাস করেছে। অবশেষে শেষ বয়সে এসে দশ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি। শেখ হাসিনা বাড়ি করে দিয়েছেন। এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই ও তিন বেলা খাবারের নিশ্চয়তা হয়েছে। আল্লাহ অনেক সুখে রেখেছেন।
শ্রীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার ইকরাম আলী বিশ্বাস বলেন, ‘‘অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘বীরনিবাস’ প্রকল্পের আওতায় শ্রীপুর উপজেলায় দশটি বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িগুলোতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা হয়েছে। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন। মুক্তিযোদ্ধারা সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। একই সাথে এ প্রকল্প অব্যাহত রাখার দাবি জানাচ্ছে।’’
মাগুরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা ইফতেখার আলী জানান, দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলার ২৫ জন অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার বসবাসের জন্য ২৫টি ‘বীরনিবাস’ (তিন কক্ষের পাকা বাড়ি, বাথরুম ও টিউবওয়েল) তৈরি করে দিয়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে এ সব মুক্তিযোদ্ধা সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।
তিনি জানান, এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের বসবাসের জন্য মাগুরায় সরকারিভাবে বড় বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে এ কাজ শুরু হবে।