কেশবপুরে বোরোর ভালো ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: 07:27:48 05/04/2018



img
img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে বোরো ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে শীষ বের হয়ে সোনালি রঙ ধারণ করতে শুরু করেছে ধান।
শেষ সময়ে কালবোশেখি আঘাত না হানলে চলতি বছর ধানের ব্যাপক ফলন হবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ধানের দাম বেড়ে যাওয়া ও দেরিতে বৃষ্টিপাতের কারণে যে সমস্ত জমি অনাবাদি ছিল, তাও কৃষকরা বোরো আবাদের আওতায় আনায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে তিন হাজার হেক্টর বেশি।
তবে এলাকার কৃষকরা বলছেন, জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বোরো আবাদ করতে তাদের অর্থনৈতিকভাবে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। ধান কাটার আগ দিয়ে যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তা হলে তারা বন্যার ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে উঠতে পারবেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনাথবন্ধু দাস জানান, ক্ষেতে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করায় এ বছর রোগবালাই কম দেখা দিয়েছে। ব্লাস্ট মোকাবিলায়ও নেওয়া হয়েছিল আগাম প্রস্তুতি। এছাড়া ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ধানের চারা সঠিক সময়ে রোপণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যথাসময়ে সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়ায় ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক শেখ আসাদুজ্জামান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে তিনি তিন বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। সুস্থ সবলভাবে বেড়ে ওঠা ধানগাছে শীষ বের হয়েছে। ঝড়, শিলা-বৃষ্টি না হলে গত বছরের তুলনায় এ বছর তিনি ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী। তিনি এ বছর মাঠে ব্রি ধান-২৮, ৬৩ ও ও হাইব্রিড ধানি গোল্ড জাতের ধানের আবাদ করেছেন।
তবে ব্রি ধান-২৮ ও ৬৩ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় এলাকার চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান এই চাষি।
কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মহাদেবচন্দ্র সানা  জানান, গত বছর ব্লাস্ট ছত্রাকের আক্রমণে কিছু কিছু এলাকার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি বোরো মৌসুমে ব্লাস্ট প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। প্রত্যেক ব্লকে মাঠ দিবসের মাধ্যমে আলোক ফাঁদ, পার্চিং পদ্ধতি ও ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর প্রায় ২৩২ কোটি টাকা দামের এক লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন