কেশবপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে হরিহর নদ খনন শুরু

আপডেট: 09:58:55 04/07/2018



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুরে ভরাট হওয়া হরিহর নদ বুধবার দুপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মাছের ঘের ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে খনন কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
হরিহর নদ পলিতে ভরাট হওয়ায় গত দুই বছর কেশবপুরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বর্ষা মৌসুমে নদের উপচেপড়া পানিতে কেশবপুর পৌর এলাকাসহ নদতীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা শুরু হয়। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের বাড়ি ঘরে পানি উঠে আসে। বাড়িঘর ছেড়ে মানুষ যশোর-চুকনগর সড়কের দুই পাশসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বছর হরিহর নদের জিরো পয়েন্টসহ আপার ভদ্রা নদীতে খনন কাজ করা হলেও এবার হরিহর নদে ৪-৫ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে উঁচু হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে এবার হরিহরের পানি উপচে পড়ে এলাকায় যাতে জলাবদ্ধতা দেখা না দেয় তার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও মাছের ঘের ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগে নদের কেশবপুর ও মণিরামপুরের সীমান্ত ছাতিয়ানতলা থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে নদ খননের কাজ শুরু করা হয়েছে। ছাতিয়ানতলা থেকে নদের ভাটিতে কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদ স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে বুধবার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, মাছের ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তপনকুমার ঘোষ মন্টু, জেলা পরিষদের সদস্য হাসান সাদেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, গতবছর হরিহর নদের জিরো পয়েন্টসহ আপার ভদ্রা নদীতে খনন কাজ করা হলেও এবার হরিহর নদে চার থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত পলি পড়ে উঁচু হয়ে গেছে।
মাছের ঘের মালিক সুলতান আহম্মেদ বলেন, নদের উপচে পড়া পানিতে এলাকা যাতে জলাবদ্ধ না হয় সে জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে নদ খনন কাজ শুরু করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, হনিহর নদের ছাতিয়ানতলা থেকে কেশবপুরের শ্রীগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার নদ স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজ শুরু হয়েছে। নদের ভাটিতে মঙ্গলকোট পর্যন্ত স্বেচ্ছাশ্রমে খনন কাজ করা হবে। স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ শেষ হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে কেশবপুরে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থাকবে না।
উল্লেখ্য, কেশবপুরের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে ইতিমধ্যে সরকার হরিহর নদ, আপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদীসহ সাতটি খাল খননের জন্য ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেন্ডারের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান।

আরও পড়ুন