কেশবপুরে ‘গায়েবি মামলা’, কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ১২

আপডেট: 03:37:24 10/10/2018



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : কেশবপুর থানা পুলিশ গতরাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বুধবার দুপুরে কেশবপুর পৌর ভবন এলাকা থেকে বিএনপি সমর্থিত কমিশনার আবজাল হোসেন বাবুকে (৩৮) আটক করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিন দাবি করেছেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিনগত রাতে নারায়ণপুর পালপাড়া রাস্তার পাশে একটি আমবাগানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের কিছু দুস্কৃতকারী সরকারকে বেকায়দায় ফেলাসহ আইন-শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ও নাশকতামূলক কাজ করে সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে গোপন বৈঠক করছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এই সময় উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের মৃত জিন্নাত আলী মোড়লের ছেলে পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেতা মাস্টার মকবুল হোসেন মুকুল (৪৮), আড়–য়া গ্রামের মৃত নেছার আলী সরদারের ছেলে সুফলাকাটি ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম (৫০), হাড়িয়াঘোপ গ্রামের মৃত তাছের মোড়লের ছেলে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আবদুল আহাদ (৪০), শ্রীফলা গ্রামের মৃত শহর আলী সরদারের ছেলে মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবদুর রাজ্জাক (৪২), রাজনগর বাঁকাবর্শী গ্রামের গোলাম আলীর ছেলে পাঁজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রশিদ (৪৪), আলতাপোল গ্রামের মৃত রওশন আলী বিশ্বাসের ছেলে পৌর বিএনপির নেতা আবুল কালাম (৪০), ফতেপুর গ্রামের চাঁদ আলী খাঁর ছেলে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইউসুফ আলী খাঁ (৪০), রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে ওয়ার্ড জামায়াতের নেতা ডাক্তার আবদুল ওহাব (৪০), বালিদাহ গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান (৩৫), চিংড়া গ্রামের মৃত নওয়াব আলী সানার ছেলে সাগরদাঁড়ী ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা রফিকুল ইসলাম সানা (৪২) ও বেতিখোলা গ্রামের মৃত হাসান শেখের ছেলে সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ফরিদ উদ্দীন শেখকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরো ২০/৩৫ জন পালিয়ে যায় বলে ওসির দাবি।
এই ঘটনায় কেশবপুর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার নেতাকর্মীদের বুধবার দুপুরে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, পুলিশের বর্ণনা করা ঘটনাকে ‘কল্পিত’ বলে অভিহিত করেছেন বিএনপি নেতারা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু সুবর্ণভ’মিকে বলেন, ‘এটি গায়েবি মামলার আরেকটি দৃষ্টান্ত।’
তিনি অবিলম্বে এই ‘গায়েবি মামলা’ প্রত্যাহার ও নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

আরও পড়ুন