কেসিসির ৬৩৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেট: 03:45:01 13/09/2018



img

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেপশনের চলতি অর্থবছরের ৬৩৭ কোটি নয় লাখ ৮৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বিদায়ী মেয়র মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামান মনি এ বাজেট ঘোষণা করেন। এটি বিদায়ী পরিষদের পঞ্চম ও শেষ বাজেট।
বাজেট বক্তৃতায় বিদায়ী মেয়র গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরের ৪৪০ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে সংশোধিত আকার দাঁড়িয়েছে ২৫৫ কোটি ৭৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৫৮ দশমিক ০২৯ শতাংশ। মূলত সরকার এবং দাতা সংস্থা থেকে আশানুরূপ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে গত অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই নতুন বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন বাজেটে রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৫ কোটি ২০ লাখ আট হাজার টাকা। নতুন কোনো করারোপ ছাড়াই নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিশ্রুতি এবং নগরবাসীর প্রত্যাশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
ঘোষিত বাজেটের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ঘোষিত বাজেটকে ‘উন্নয়নমুখী’ উল্লেখ করে বলেন, বাজেটে বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত স্থাপনার ওপর কর ধার্য্য, নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে বাজেটে নগরীর সড়ক ও ড্রেনেজ তথা জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নীতকরণ, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মান উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কেসিসির বিভিন্ন দপ্তর আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে মশা নিধন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হওয়া ক্ষতি মোকাবেলা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ এবং দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী মেয়র বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধুমাত্র সরকারি বা বিদেশি সাহায্য ও ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারে না। তাকে নিজস্ব আয়ের ওপর ভর করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা আজ সময়ের দাবি। এজন্য তিনি নিয়মিত কর পরিশোধসহ নগরবাসীর সর্বাত্মক সহায়তা প্রত্যাশা এবং কেসিসির নতুন পরিষদের সফলতা কামনা করেন।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে কেসিসির অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আজম গত অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়াকে নিজেদের ব্যর্থতা বলে স্বীকার করেন।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও তা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে ওই টাকা ফেরত যায়। তবে, নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এক হাজার ৪২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন; যা দ্রুত পাওয়া যাবে। এ অর্থ পেলেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাজেট অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শেখ মো. গাউসুল আজম। পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশকান্তি বালা।

আরও পড়ুন