কোটচাঁদপুরে মহাসড়কের গা-ঘেঁষে কাঠের স্তূপ

আপডেট: 05:10:20 13/09/2018



img

কাজী মৃদুল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর শহরের মহাসড়কের গা-ঘেঁষে ব্যবসায়ীরা কাঠের বড় বড় গুঁড়ি স্তূপ করে রাখায় যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঝরে পড়তে পারে প্রাণ।
কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরে একে একে গড়ে উঠেছে প্রায় ২০টি কাঠ চেরাই কল। সবগুলো কল কালীগঞ্জ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের গা-ঘেঁষে বসানো হয়েছে। মিল মালিকদের সহযোগিতায় কাঠ ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধার্থে কাঠের বড় বড় গুঁড়ির স্তূপ করে রাখেছেন মহাসড়কের গা-ঘেঁষে। যে কারণে মহাসড়কের পাশে জায়গা না থাকায় দ্রুতগামী বাস-ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে ছোট ছোট যানগুলো প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এর আগে ওই সব স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। হতাহতের ঘটনায় বছরখানেক আগে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মহাসড়কের পাশ থেকে কাঠ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন কাঠের স্তূপ সরিয়ে নেন কাঠ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই মিল মালিকদের সহযোগিতায় মহাসড়কের গা-ঘেঁষে ব্যবসায়ীরা আবার কাঠের স্তূপ সাজিয়েছেন আগের মতোই।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি মিলের সামনের মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে লম্বালম্বিভাবে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ ফুট পর্যন্ত জায়গা কাঠ ব্যবসায়ীরা দখলে রেখেছেন। পাশাপাশি মিলকেন্দ্রিক রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে খড়ির আড়ত এবং ফার্নিচার তৈরির কারখানা। এরাও রাস্তার গা-ঘেঁষে খড়ি স্তূপ করে রেখেছেন। ফার্নিচার মালিকরা বিক্রির জন্য রাখছেন তৈরি করা ফার্নিচার ও কাঠ। সব মিলিয়ে মিল, রাস্তার ধারের খড়ির আড়ত ও ফার্নিচারের কারখানাগুলোর সামনের মহাসড়ক ভয়াবহ বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি করেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কাঠ ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমিতির নিজস্ব স মিল রয়েছে। এ মিলের সামনে মহাসড়কের ধারে কাঠ খুবএকটা নেই। আর যেটুকু আছে আমরা তা সরিয়ে ফেলবো।’
স মিল মালিক সমিতির সভাপতি জামাল উদ্দীন মিয়া বলেন, ‘এ সমস্যার সৃষ্টি করে কাঠ ব্যবসায়ীরা। তারা কাঠ খরিদ্দারের চোখে ধরানোর জন্য রাস্তার ধারটা বেছে নেয়। আমি তাদেরকে স মিলের সামনের রাস্তার পাশ থেকে কাঠের স্তূপ সরিয়ে নিতে বলবো।’
কাঠ ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রতিটি কাঠ ব্যবসায়ীর উচিৎ এই ব্যস্ত মহাসড়ক থেকে কমপক্ষে দশ ফুট দূরত্বে কাঠ সরিয়ে ফেলা। তা না হলে একজন মোটরসাইকেল বা বাইসাইকেল আরোহীও দুর্ঘটনায় পড়ে মৃত্যুর শিকার হতে পারে।’
কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘আমি স মিল মালিকদের তালিকা যোগাড় করে নোটিসের মাধ্যমে তাদেরকে ডেকে কাঠ সরিয়ে নিতে বলবো।’

আরও পড়ুন