কোথায় কী হচ্ছে, সেটা আমরা জানি : কাদের

আপডেট: 09:04:32 07/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ওয়ান-ইলেভেনের মতো বাংলাদেশকে আবার অগণতান্ত্রিক পথে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
আর সরকার সে বিষয়ে সজাগ রয়েছে বলেও ষড়যন্ত্রকারীদের সতর্ক করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কাদের বলেন, “দেশে যখন শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করেছিল, ঠিক সেসময়ে ১/১১ কুশীলবরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে।”
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সরাসরি না বললেও সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতে সাম্প্রতিক নৈশভোজের দিকে যে ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।
ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটও ছিলেন। বৈঠক থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়িতে হামলা চালায় এক দল ব্যক্তি, হামলা হয় বদিউল আলমের বাড়িতেও।
কাদের বলেন, “কোথায় কী হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে। প্রথম প্রহরে, মধ্য প্রহরে, শেষ প্রহরেও হচ্ছে রাতের অন্ধকারে। সরকার কিছু জানে না, সেটা ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সব কিছুই আমরা জানি। সব কিছুই আমাদের নলেজে আছে।”
“কত ষড়যন্ত্র হয়েছে, শত বৈঠক হয়েছে। ব্যবস্থা নিলে কারো জেলের বাহিরে থাকার কথা ছিল না, কিন্তু আমরা ধৈর্য্য ধরছি,” বলেন তিনি।
কাদের আবারো বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভর করে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
“সারাদেশ থেকে তাদের ক্যাডারদেরকে এনে ঢাকা অচল কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবে। ঢাকা অচল করে বাংলাদেশ অচল করার পরিকল্পনা তাদের ছিল এবং আছে।”
শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রসঙ্গ ধরে গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন দেশে ‘গুণ্ডাতন্ত্র’ রয়েছে বলে যে মন্তব্য করেন, তারও জবাব দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, “গুণ্ডাতন্ত্র কাকে বলে- তা সবিনয়ে কামাল হোসেনকে জিজ্ঞেস করতে চাই। চোখ উপড়ে ফেলল আমাদের স্বেচ্ছাসেবকলীগের কর্মী আরাফাত বাপ্পীর, আমাদের সেই রাজনৈতিক কর্মীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে এখন চেন্নাই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আজ তাকে দেখতে যাবেন এবং তার সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন।
“আমাদের আহত কর্মীকে হাইজ্যাক করা হয়েছে। তা কোনো কোনো গণমাধ্যমেও দেখলাম, এ সংবাদ শুধু দেশে নয়, কিছু কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও করছে।”
অভিযোগের মুখে থাকা ছাত্রলীগের পক্ষে দাঁড়িয়ে কাদের বলেন, “সব দোষ আওয়ামী লীগের? ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়েছে। এখনো তারা ভালো করে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এ এলাকায় ছাত্রলীগের (ধানমন্ডি) কোনো কমিটি ছিল না। যারা আহত হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রনেতা, বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্যরা। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আহত হয়েছে।
“আক্রান্ত হলাম আমরা কিন্তু এখন দেশে-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদেরকে আক্রমণকারী চিহ্নিত করে দলের এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”
উন্নয়ন দিয়েই অপবাদের জবাব দেওয়ার কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের।
অস্থিরতা সৃষ্টি করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
“সাংবাদিকদের টার্গেট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা এ দেশে অনেকবার হয়েছে। গতকাল আমি সাংবাদিকদের বলেছি, ছাত্রলীগের উপর অপবাদ আসছে, আপনারা আমাকে তালিকা দিন। কারা কারা এতে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে- জাতিসংঘ মিশনের এমন বিবৃতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা বলেন, “আমরা জাতিসংঘে জানিয়েছি, এগুলো অপপ্রচার।”
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজীম আহমেদ সোহেল তাজের ফেসবুক স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, “তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের রাজনীতির বাহিরে আছেন। এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।”
রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ-সংলগ্ন রাস্তায় আন্ডারপাস নির্মাণকাজ রোববার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।
কাদের বলেন, সংসদ ভবন থেকে ন্যাম ভবন পর্যন্ত, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের নির্দেশও প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।
কয়েকদিন পর দেশে ‘স্বস্তিদায়ক পরিবেশ’ ফিরে আসায় তা ধরে রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, গোলাম রাব্বানী চিনু, মারুফা আক্তার পপি উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন