কোন্দলে বেহাল লোহাগড়া আওয়ামী লীগ

আপডেট: 09:10:58 23/04/2019



img

রূপক মুখার্জি, লোহাগড়া (নড়াইল) : গ্রæপিং আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ। দলীয় কার্যক্রমেও বিরাজ করছে চরম স্থবিরতা। সভা-সমাবেশ নেই বললেই চলে। এ কারণে হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলা বরাবরই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নেতৃত্ব সংকট প্রকট। রয়েছে দলীয় কোন্দল। দলীয় কোন্দলের কারণে তৎকালীন যুবলীগ নেতা মো. খসরুল আলম মোল্যা ওরফে খসরু নৃশংসভাবে খুন হন। এখানে দলের কোনো ‘চেইন অব কমান্ড’ নেই। ফলে, নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত। আর এর প্রভাব পড়ছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ওপরও। এই সব কারণে নেতা-কর্মীদের অনেকেই দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সবশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু সভাপতি ও সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পরেই সভাপতি ও সম্পাদক দলীয় কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে নিজেদের অনুসারী বাড়াতে তৎপর হয়ে ওঠেন। নেতা-কর্মীরাও প্রকাশ্য দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েন।
কথা ছিল সম্মেলনের পর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমঝোতার ভিত্তিতে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের কাছে পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম প্রস্তাব করে জমা দেবেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তারা এই কাজটি করতে পারেননি। কারণ, দুইজনের মধ্যে কোনো সমন্বয় তো নেইই, আছে তীব্র দ্ব›দ্ব। এমনটি শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে মুখ দেখাদেখিও বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন।
এমন পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগ দলের লোহাগড়া উপজেলা শাখার ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন করে। এ কমিটি অনুমোদনের পরই সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটুর নেতৃত্বাধীন অপর একটি কমিটি প্রকাশ করা হয়। যদিও এই কমিটির জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত নয়। এ নিয়ে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস বোস সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতেও বাধ্য হয়েছিলেন।
এদিকে, গ্রুপিংয়ের পরিণতিতে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুইজনই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু জয়ী হন। মজার ব্যাপার হলো, দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে এ দুইজন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দলীয় হাই কমান্ড কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মী জানান, দল এভাবে চলতে পারে না। গ্রুপিং আর দলীয় কোন্দলে দলের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে উপজেলা আওয়ামী লীগ সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
কোন্দল সম্বন্ধে কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি দলের কোনো নেতা।

আরও পড়ুন