ক্যানসার রোগীর ঘরও গেছে কবিরাজের কুমন্ত্রণায়

আপডেট: 05:44:53 20/08/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছায় ভণ্ড কবিরাজের পাল্লায় পড়ে বসতবাড়ি হারানো ও মারণব্যাধি ক্যানসার আক্রান্ত যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারী রবিউল ইসলাম বাঁচতে চান।
উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর পালপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৫) তিন সন্তানের জনক। বড় ছেলে সাইদুল (১৪) সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, ছোট ছেলে রাশিদুল (১০) চতুর্থ শ্রেণির, আর শিশু মেয়ে নুশরাতকে (৬) নিয়ে তিনি এখন অসহায়। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লে ‘জিনের আছর’ হয়েছে সন্দেহে বিভিন্ন কবিরাজের কাছে ধরনা দেন তিনি। যে যার কাছে যেতে বলেন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সরল বিশ্বাসে সেখানে ছুটতে থাকেন। কিন্ত অবস্থার কোনো পরিবর্তন না দেখে শেষ সম্বল হাতে নিয়ে ছুটে যান রাজধানীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানানো হয় রবিউলের ফুসফুসে টিউমার হয়েছে।
স্ত্রী নাজমুন নাহার বলেন, ‘বক্ষব্যধি হাসপাতাল থেকে ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে মহাখালী ক্যানসার ইন্সটিটিউটে ভর্তি করি। সেখানে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা খরচের টাকা যোগাতে না পেয়ে অসুস্থ মানুষটিকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। এখন একদিকে স্বামীর চিকিৎসার খরচ অন্য দিকে সংসার। খেয়ে না খেয়ে অসহায় তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে আমাদের।’
রবিউল ইসলাম সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘তারা লেখাপড়ায় ভালো। কিন্তু এখন তাদের কী হবে?’
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, রবিউল ইসলামের ইটের তৈরি তিন কামরার একমাত্র বসতবাড়ি, যা লিন্টেল (ছাদের কাজ বাকি অবস্থায়) পর্যন্ত নির্মাণ করার পর ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানালেন, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার গ্রামের এক ভণ্ড কবিরাজ রামঠাকুরের পরামর্শে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কবিরাজ বলেছে, রবিউলের বাড়ির ওপর দিয়ে জিন চলাচল করে। একারণে রবিউলের এ অবস্থা হয়েছে।’
গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলার রঘুনাথপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা গোলাম মোরতাজা বলেন, ‘‘কিছুদিন আগে তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ভাই, আমার এই নতুন ঘরটি তৈরির পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। এজন্য ঘরটি ভেঙে ফেলছি।’’
রবিউলের স্ত্রী নাজমুন নাহার বলেন, ‘আমি স্বামীর চিন্তায় মনের ভয় থেকে ঘর ভেঙে ফেলেছি।’
তিনি স্বামীর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। একইসঙ্গে স্বামীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন। সাহায্য পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর ০১৭৬০৯৫০০৩৬।

আরও পড়ুন