খালেদাকে আদালতে হাজির করা হয়নি

আপডেট: 03:09:09 09/04/2019



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজির করা হয়নি। আগাম ২ মে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২ এর বিচারক এ এস এম রুহুল ইমরান এই দিন ঠিক করেন। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার শুনানি চলে আসছে।
আদালত সূত্র বলছে, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হবে কি না, তা জানানোর জন্য গত ৮ এপ্রিল বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল কবির চৌধুরী। জবাবে বিএসএমএমইউ'র অতিরিক্ত পরিচালক চিকিৎসক নাজমুল করিম আজ মঙ্গলবার কারা কর্তৃপক্ষকে জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলমান থাকায় তাকে আদালতে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তিনি এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠনের শুনানির নতুন দিন ঠিক করেছেন আদালত। গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়। মামলার অপর আসামি বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী আমিনুল হক আদালতে হাজির হননি। তার আইনজীবী লিখিতভাবে আদালতকে জানান, আমিনুল হক ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তিনি অচেতন। মামলার আসামি বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরী আদালতে হাজির ছিলেন। আদালতে হাজির ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কে এম মোশাররফ হোসেন, হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, আসামি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম ও পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান। পলাতক আছেন বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসামি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন। সেদিনই খালেদা জিয়াকে হাজির করতে পরোয়ানা জারি করা হয়। দুর্নীতির পৃথক দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হচ্ছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
আদালত সূত্র বলছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলার আসামি বিএনপি নেতা আমিনুল হকের আবেদন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলাটি এখন অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে আছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, মামলার ১৬ আসামির মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুল মান্নান, বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার ও এম শামসুল ইসলাম মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াসহ নয়জন এখন মামলার আসামি।
২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা বাতিল চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ২৫ মে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দুদক মামলাটি করে। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ অক্টোবর দুদকের উপপরিচালক আবুল কাসেম ফকির এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে পেট্রবাংলার প্রস্তাব অনুযায়ী পুনরায় দরপত্রের সিদ্ধান্ত না দিয়ে পিপিআর ২০০৩ লঙ্ঘন করে শ্যান্ডং লুদির অযৌক্তিক দরবৃদ্ধির প্রস্তাবসহ অন্যান্য শর্তাদি নিয়ে শ্যান্ডং লুদির সঙ্গে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করা হয়। সময়ের স্বল্পতার অজুহাতে সর্বোচ্চ দরদাতা সিএমসিকে কাজট দিয়ে সরকারের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ ২৬ হাজার ৩৪৩ টাকা ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। যা দণ্ডবিধি এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ।
সূত্র : প্রথম আলো

আরও পড়ুন